বিস্তারিত

শেষ পর্যন্ত পরাজয় আরব আমিরাত এর

ছবি : সংগ্রহকৃত

নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার পিলে চমকে দিয়েছিল তারা। পরের ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হারলেও নিজেদের সামর্থ্যরে জানানই দিয়েছিল বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে এশিয়া কাপে খেলতে আসা সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর তৃতীয় ম্যাচে সেই আরব আমিরাত হয়ে উঠলো আরো ভয়ঙ্কর। ব্যাটে-বলে রীতিমতো পাকিস্তানকে ভরকেই দিল আইসিসির সহযোগী দেশটি।

শেষপর্যন্ত জয়ের দেখা না মিললেও ভবিষ্যতের হুমকিটা মিরপুরেই দিয়ে রাখলো আমজাদ-সায়মন আনোয়াররা। প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১২৯ রান তোলার পর বল হাতেও দাপুটে শুরু করেছিল আরব আমিরাত। ১৭ রানেই পাকিস্তানের তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছিল তারা। কিন্তু শুরু ধীরে ধীরে বিবর্ণ হয়ে উঠেছে ম্যাচসেরা শোয়েব মালিক ও উমর আকমলের ব্যাটিংয়ে। শেষপর্যন্ত আমিরাতকে হার মানতে হলো ৭ উইকেটে। অনেকের চোখে আমিরাতের এই হার অভিজ্ঞতার কারণেই।    ১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য। প্রতিপক্ষ বোলাররাও তেমন বিখ্যাত কেউ নন। কিন্তু পাকিস্তানের শুরুটা হলো দুঃস্বপ্নের চেয়ে ভয়ানকভাবে। এক আমজাদ জাভেদের বোলিং তোপেই বিধ্বস্ত প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হার মানা পাকিস্তান।

মাত্র ১৭ রানের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যান শারজিল খান, খুররম মানজুর ও মোহাম্মদ হাফিজকে সাজঘরে পাঠান আমিরাত অধিনায়ক আমজাদ। দিকহারা পাকিস্তানকে অবশ্য নিমিষেই সব ভুলিয়ে দিয়েছেন শোয়েব মালিক ও উমর আকমল। এই দুই ব্যাটসম্যান শুরুর চাপ কাটিয়ে তুলে ব্যাটিং করেছেন দারুণ ছন্দে। আর কোনো বিপত্তিই ঘটতে দেননি এ দুজন। মাঝে অবশ্য হতে পারতো ছন্দপতন। কিন্তু ৪১ রানে ব্যাট করা শোয়েব মালিকের ক্যাচ নিতে পারেনি আমিরাতের উমান মুসতাক। শেষপর্যন্ত মালিক ও আকমলই খেলা শেষ করেছেন। মালিক ৬৩ রানে ও আকমল ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন।  টস জয়ের পর কিছু না ভেবেই ব্যাটিং নিয়ে নেয় আরব আমিরাত। প্রতিপক্ষ যেখানে পাকিস্তান সেখানে পরে ব্যাটিং করার কথা ভুলেও মনে আনেনি তারা। কিন্তু শুরুতেই পাকিস্তান পেসার মোহাম্মদ সামির বোলিং তোপের মুখে আমিরাত।

দলীয় ১ রানেই ওপেনার রোহান মুস্তফার বিদায়। এরপর মোহাম্মদ আমির ঝড়। ১ রান পরই মুহাম্মদ কলিমের স্টাম্প ছত্রখান হলো আমিরের বলে। আমিরাত এই চাপ কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আরেক পাকিস্তান পেসার মোহাম্মদ ইরফান ঘাতকের ভূমিকায়। দীর্ঘদেহী এই পেসারের শিকার মোহাম্মদ শাহজাদ। ১২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে আমিরাত তখন দিকহারা। এমন জরাজীর্ণ দলকে আলোর পথে ফেরালেন সায়মান আনোয়ার। উসমান মুস্তাককে নিয়ে পাড়ি দিলেন কিছুটা পথ। দলীয় ৪১ রানে মুস্তাকও থামলেন। তবে সায়মান খেলছিলেন সাবলীলভাবে। যদিও মাত্র ৪ রানের হতাশায় পুড়তে হয়েছে তাকে। ৪২ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ৪৬ রানে আউট হন পাকিস্তান বংশদ্বূত ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

এরপর আমিরাতের ইনিংস বড় করেছেন মোহাম্মদ উসমান, অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ, মোহাম্মদ নাভিদরা। উসমান ২১ করে ফিরলে আজমাদ ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। নাভিদও ১০ রানে অপরাজিত থাকেন। এদের ব্যাটেই শেষপর্যন্ত ৬ উইকেটে ১২৯ রান তোলে আইসিসির সহযোগী দেশটি। এখানেও যেন এক জয় মিললো তাদের। পাকিস্তানের মতো বোলিং লাইনের বিপক্ষেও ৪ উইকেট হাতে রেখেই ইনিংস শেষ করাটা আমিরাতের জন্য জয়ের চেয়ে কম কিসে?

সংবাদের ধরন : খেলা-ধুলা নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার