বিস্তারিত

‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ চ্যালেঞ্জ করা মামলার শুনানি ২৭ মার্চ

bdnews,bd news,bangla news,bangla newspaper ,bangla news paper,bangla news 24,banglanews,bd news 24,bd news paper, ছবি : সংগ্রহকৃত

সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ হিসেবে ইসলাম অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে জারিকৃত রুলের শুনানি আগামী ২৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।
২০১১ সালে রুল জারির সময় আদালত এ বিষয়ে ১২ জন সিনিয়র আইনজীবীর বক্তব্য শুনতে চেয়েছিলেন। তারা হলেনÑ টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, রফিক-উল হক, মাহমুদুল ইসলাম, ড. এম জহির, ফিদা এম কামাল, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আজমালুল হোসেন (কিউসি), ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, এ এফ এম মেসবাহউদ্দিন ও আবদুল মতিন খসরু। তবে নতুন বৃহত্তর বেঞ্চ গতকাল এই আদেশ সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছেন বলে জানিয়েছেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক। তিনি বলেন, আদালত আগামী তারিখে এ বিষয়ে নতুন আদেশ দিতে পারেন।
সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসন চলাকালে ১৯৮৮ সালের ৯ জুন অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়, তার অন্যতম ছিল রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্থান দেয়া।
তবে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৮৮ সালেই হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়। এর পর থেকেই আবেদনটি হাইকোর্টে বিচারাধীন ছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাপক সংশোধনী আনা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিষয়টি বহাল থাকে। এর পরিপ্রেেিত সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে ২০১১ সালের জুন মাসে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেেিত বিচারপতি এ এইচ এম সামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ ওই বছরের ১১ জুন রুল জারি করেন। রুলে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্তির বিধান কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সাথে সিনিয়র ১২ আইনজীবীকে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। রুল জারি এবং রিট দায়েরের দীর্ঘ দিন পর মামলাটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে উঠল।
অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর পর ২(ক) যুক্ত হয়। ২(ক)-তে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে।’ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ৯ জুন এতে অনুমোদন দেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের আগস্ট মাসে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি’র পে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নানা ধর্ম বিশ্বাসের মানুষ বাস করে। এটি সংবিধানের মূল স্তম্ভে বলা হয়েছে। এখানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্যান্য ধর্মকে বাদ দেয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক। রিটকারীদের মধ্যে ইতোমধ্যে অনেকেই ইন্তেকাল করেছেন।
এ দিকে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার মতায় এসে সংবিধান সংশোধনে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বহাল রাখার সুপারিশ করে। তবে এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।’ এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে বহাল রাখার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করে রিটকারী প।
আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম (আংশিক) ও ত্রয়োদশ সংশোধনী সংসদে অনুমোদিত (পাস) হলেও সুপ্রিম কোর্ট এসব সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতির বিধান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ের আলোকে ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেতা ও গণতন্ত্র সংবিধানে ফিরে এসেছে। আদি সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল হয়েছে। এর সাথে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম অব্যাহত রাখা হলে তা হবে সাংঘর্ষিক ও পঞ্চম সংশোধনীর মামলার রায়ের পরিপন্থী।
রিট আবেদনের ওপর জারিকৃত রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত বছর রিটকারী প থেকে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের জন্য আবেদন জানানো হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেেিত রিটের রুলের চূড়ান্ত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো: আশরাফুল কামাল।
আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সংবিধানের ‘চার মূলনীতি’র অন্যতম হলো ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এই মূলনীতির পরিপন্থী।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : বিডি নিউজ