বিস্তারিত

‘প্রাথমিক শিক্ষক’ নিয়োগ ১৪ জেলায় স্থগিত করেছে হাইকোর্ট

ছবি : সংগ্রহকৃত

হাইকোর্টের রুল জারির ফলে স্থগিত হয়ে গেছে ১৪ জেলার সদ্য উত্তীর্ণ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ। সোমবার ১৪ জেলার ঘোষিত ফলাফল ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদের ফলাফল কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মাহমুদ হাসান তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সেই ১৪ জেলা হলো পটুয়াখালী, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, নোয়াখালী, যশোর, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও ও বরগুনা। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি নীলফামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে গত ২৪ ডিসেম্বরের নিয়োগ স্থগিত ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই দিন নওগাঁ ও ভোলা জেলায় শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

গত রোববার নিয়োগ বঞ্চিত আফরিন যুথী, নাজমুন নাহার কাকলী, মুরশিদা খাতুন, মমতাজ মহল, ফারজানা খাতুন, মিতা উকিল, মিতালী রানী, ইতি রানীসহ ৪৬ জন হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

আদালত থেকে বের হয়ে আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩ এর ৭ বিধিতে বলা হয়েছে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদগুলোর ৬০ শতাংশ মহিলা, ২০ শতাংশ পোষ্য এবং বাকি ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করতে হবে।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), ১৪ জেলার শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের। তাদেরকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

২০১৯ সালের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ওই বছরের ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশ থেকে ২৪ লাখ পাঁচজন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রথম ধাপে ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মে, তৃতীয় ধাপে ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপে ২৮ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় ৫৫ হাজার ২৯৫ জন পাস করেন। গত ৬ অক্টোবর থেকে নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। মাসব্যাপী সারাদেশের সব জেলায় মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এ পরীক্ষায় ৬১ জেলায় ১৮ হাজার ১৪৭ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন শিক্ষকদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে বলা হয়েছে। ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি তাদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পদায়নের আদেশ জারি করা হবে। এরই মধ্যে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

সংবাদের ধরন : র্শীষ সংবাদ নিউজ : নিউজ ডেস্ক