বিস্তারিত

চলে গেলেন ভারতীয় অভিনেতা ‘তাপস পাল’

ছবি : সংগ্রহকৃত

বাংলা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল বিদায় নিয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন তাপস পাল। রাজনীতিতে এসে বেশ বির্তকিত হলেও অভিনেতা হিসেবে তার জনপ্রিয়তার একচুল কমেনি। বরং তাপস পালের মতো অভিনেতাকে নিয়ে গর্বিত বাংলা চলচ্চিত্রের টালিগঞ্জের চলচ্চিত্র মহল।

প্রায় ১৭ দিন মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনের ছিলেন তাপস পাল। সেই খবরটিও অনেকেই জানতেন না। তাই মঙ্গলবার সকালে যখন অনেকেই সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারেন তাপস পাল আর নেই, অনেকেরই তখন মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।

অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত মনে করেন, বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলেন তাপস পাল। পারিবারিক সম্পর্ক ছিল তার সঙ্গে। যদিও বেশ কিছুদিন ধরে যোগাযোগ ছিল না। অনেকটা নীরবেই চলে গেলেন।

অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কেদে ফেলেন, দেবশ্রী বলেন, কি বলব ভাষা হারিয়ে ফেলেছি আমি। এতো চলচ্চিত্র একসঙ্গে করেছি যে কত স্মৃতি, কত কথা, কত আনন্দ করেছি আমরা। আজ এ রকম একটা খবর শুনতে হচ্ছে।

মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ভোর সাড়ে তিনটায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান এ গুণী অভিনেতা। দীর্ঘদিন ধরে মাথায় একটা জটিল রোগে ভুগছিলেন তাপস পাল। জানুয়ারির শেষ দিকে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় মুম্বাই ওই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

১ ফেব্রুয়ারি থেকে অবস্থার চরম অবনতি হয় এবং তাকে ভেন্টিলেশনে স্থানান্তিরত করা হয়। যদিও ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে যান তাপস পাল।

তাপস পাল তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় একজন সদস্য ছিলেন। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে দুবারের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংসদ সদস্য অবস্থায় তিনি বেশ কয়েকবার বির্তকিত মন্তব্য করে চরম বির্তকের মধ্যে পড়েন।

রাজনীতিতে বির্তকিত অবস্থার কারণেই তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে যায়। দূরত্ব বাড়ে তৃণমূলের সঙ্গেও। তাপস পালের ঘনিষ্ট সূত্র বলছে, তাপস পালের শেষ দুই বছর খুবই কঠিন অবস্থায় কেটেছে। রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের সঙ্গেও তার তেমন সুসম্পর্ক ছিল না।

সংবাদের ধরন : বিনোদন নিউজ : নিউজ ডেস্ক