বিস্তারিত

স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গিয়েছে কিম জং উনের রিসর্টের সামনে বিশেষ ট্রেন

ছবি : সংগ্রহকৃত

গতকালই হংকং টিভি দাবি করেছিল, উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন প্রয়াত। কিন্তু এরই মাঝে আবার স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গিয়েছে বিশেষ একটি ট্রেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের ব্যক্তিগত রিসর্টের সামনে। মনে করা হচ্ছে, এই ট্রেনটি কিমেরই। সম্প্রতি স্যাটেলাইট ছবি রিভিউ করে দেখেছে ওয়াশিংটনের সংবাদ মাধ্যম ‘নর্থ কোরিয়া মর্নিং প্রজেক্ট’।

শনিবার রাতে প্রকাশিত দ্য মর্নিং প্রজেক্ট জানাচ্ছে, ট্রেনটি ওয়ানসানের ‘লিডারশিপ স্টেশন’-এ ২১ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল অবধি পার্কিং করা ছিল। আর এই ‘লিডারশিপ স্টেশন’-টি স্টেশন আদতে কিম জং উন এবং তাঁর পরিবারের। যদিও এই স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তরফে এখনও অবধি নিশ্চিত করে জানানো হয়নি যে, কিম জং উন আপাতত ওযানসানেই নিজের রিসর্টে রয়েছেন কি না।

উত্তর কোরিয়ার শাসকের শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ে চিকিৎসক প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে চিন। এরই মাঝে আবার গত কালই হংকং টিভিতে সম্প্রচারিত হয়, ‘প্রয়াত হয়েছেন কিম জং উন।’ এমনকী উত্তর কোরিয়ার শাসকের মৃতদেহ শায়িত রয়েছে, এই ছবিও দেখা গিয়েছে হংকং টিভিতে। নেটপাড়ায় বেশ ভাইরালও হয় সেই ছবি। যদিও এর সত্যতা এখনও অবধি যাচাই করে দেখা হয়নি।

38 North-এর রিপোর্টে আরও তুলে ধরা হয়েছে যে, কিমের রিসর্টের সামনে অর্থাৎ ‘লিডারশিপ স্টেশন’-এ যে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে রয়েছে সেটি কমপক্ষে ২৫০ মিটার লম্বা। স্যাটেলাইট চিত্রে যা ধরা পড়ছে, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে ‘লিডারশিপ স্টেশন’-এর ছাদে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে ওই ট্রেনের অর্ধেক অংশ। পাশাপাশিই রিপোর্টে এ-ও দাবি করা হয়েছে যে, ১৫ এপ্রিল ট্রেনটি কিন্তু সেখানে ছিল না।

ট্রেনটি ২১ এপ্রিলের কিছু আগেই ওয়ানসানে নিয়ে আসা হয়েছে। ২৩ এপ্রিলও ওই ট্রেনের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে ‘লিডারশিপ স্টেশন’-এ। তবে ট্রেনটিকে পরবর্তীতে বের করার সুবিধার জন্য নতুন ভাবে ফের পার্ক করা হয়েছে, এমনই উল্লেখ করা হয়েছে 38 North-এর রিপোর্টে।

কিমের ওই ওয়ানসান কমপ্লেক্সে নয়টি বড়সড় গেস্ট হাউস রয়েছে। মাঠের ঠিক মাঝখানেই রয়েছে বিশালাকার একটি বিল্ডিং, যা ২০১৪ সালে কিম ক্ষমতায় আসার পরেই তড়িঘড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ ছাড়াও বিলাসবহুল এই রিসর্টে রয়েছে একটি সংরক্ষিত বন্দর, শুটিং রেঞ্জ, রিক্রিয়েশন বিল্ডিং এবং রয়েছে একটি ডকও। যা কিমের মেগা ইয়াচের জন্যই মূলত ব্যবহৃত হয়। ঠিক সামনাসামনি যে রেলওয়ে স্টেশনটি অর্থাৎ লিডারশিপ স্টেশন-এর লাগোয়া একটি রানওয়েও রয়েছে। ছোটখাটো এয়ারক্রাফ্টগুলি সেখানেই নামে এবং থাকেও এখানেই। তবে গত বছরই এই রানওয়কে ‘হর্স রাইডিং ট্র্যাক’ বানানো হয়। কিমের নতুন শখের অন্যতম একটি হল এখন ঘোড়া চড়ানো।

বিগত কিছু দিন ধরেই কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে এক আকাশ জল্পনা। সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে যে, কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা বেশ সংকটজনক। তারপরই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়ে যায়।

বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, অত্যধিক ধূমপান, স্থূলতা-সহ বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন কিম জং উন। তার উপর ছিল মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ। এর জেরেই হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার এবং তারপর থেকেই গুরুতর অসুস্থ কিম জং উন। গত দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

এরপরই হংকং টিভির তরফে একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে বছর ছত্রিশের কিম শায়িত রয়েছেন। যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করা হয়নি। এই প্রসঙ্গেও কোনও মন্তব্য করেনি উত্তর কোরিয়া। ট্রাম্প অবশ্য বলেছে, “আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে আশা করি এটা মিথ্যা খবর। আমি শুনেছি তাঁরা কিছু পুরনো তথ্য ব্যবহার করছে।”

হংকং টিভির দাবি, শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে কিমের। তাঁর ফুসফুসে জল জমছিল। রক্তচাপে হেরফের হচ্ছিল। জ্বরও নামছিল না। কোনও ওষুধ কাজ করছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বছর বয়সেই জীবনাবসান হল এই স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপ্রধানের।

শনিবার রাত পর্যন্ত এই সংবাদ সংস্থাগুলির ওয়েবসাইট কিমের মৃত্যু বা শারীরিক অবস্থা নিয়ে একটুও উচ্চবাচ্য করেনি। কিন্তু দু’টি তথ্য এরা প্রকাশ করেছে। তা হল, বেজিং, মস্কোয় উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসে কর্মীদের মধ্যে অদ্ভুত নীরবতা লক্ষ্য করা গিয়েছে গত দু’দিন ধরে। উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে চাপা উত্তেজনা ও আতঙ্ক রয়েছে সাধারণ জনমানসে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, কিমের পর উত্তর কোরিয়ার সর্বাধিনায়িকা হিসাবে তাঁর আসনে বসবেন সহোদর বোন কিম ইও জং। তিনি বরাবরই দাদা কিমের প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত। সেনাবাহিনীতে ও কমিউনিস্ট পার্টিতে তাঁর প্রভাব বেশি। বোনকে নিজের বিকল্প হিসাবে পলিটব্যুরোয় ক্ষমতা দিয়ে ফিরিয়ে এনেছিলেন কিম।

সংবাদের ধরন : আন্তর্জাতিক নিউজ : নিউজ ডেস্ক