বিস্তারিত

স্বাস্থ্য বিধি না মানায় জরিমানা দিলেন নায়িকা তমা মির্জা

ছবি : সংগ্রহকৃত

সামাজিক দূরত্ব রক্ষা না করা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সড়কে না চলায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা তমা মির্জাসহ ৯ জনকে জরিমানা করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগ, হাতিরপুল কাঁচাবাজার ও মগবাজার মোড় এলাকায় অভিযানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে সাবধান করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) শেখ মোহাম্মদ শামীমের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহনাজ হোসেন ফারিবা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, করোনা রোগ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে মানুষের জনসমাগম ও অপ্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়া ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটির মেয়াদ আরো বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয় ঘরে নিরাপদে অবস্থান করার জন্য। তবে দেখা যাচ্ছে অনেকেই অহেতুক বাইরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে ঘোরাফেরা করছেন। কেউ কেউ স্বাস্থ্য বিধিও মেনে চলছেন না।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো শাহবাগ, হাতিরপুল কাঁচাবাজার ও মগবাজার মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা করা হয়। এসময় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় আদালতে ৯ ব্যক্তিকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ওই নয়জনের মধ্যে ছিলেন ঢালিউডের উদীয়মান চিত্রনায়িকা তমা মির্জাও। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব সংস্থার নিয়ম না মেনে মাস্ক ছাড়াই সড়কে বের হয়েছিলেন। এজন্য তাকে ৫০০ টাকা করা হয়। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়। এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনার সময় প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়।

তমা মির্জা বলেন, গতকাল করোনা ভাইরাস নিয়ে একটি টেলিভিশনে প্রচারিত সচেতনতা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানের শুট ছিল। শুটিং শেষ হতে হতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা বাজে। এরপর বাসায় ফেরার পথে মৌচাকে পুলিশ আমার গাড়ি থামায়। তারা জানতে চাইলে, আমি আমার শুটিংয়ের কথা বলি। আমাকে ৫০০টাকা জরিমানা করেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি জরিমানা দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, তমা মির্জা ২০১৫ সালে নদীজন চলচ্চিত্র অভিনয়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্র অভিনেত্রী বিভাগে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

তমা মির্জার শৈশব কাটে বাগেরহাটের কচুয়ায়। সেখানে মাধ্যমিক পাশ করার পর ঢাকায় এসে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে ভর্তি হন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। উচ্চমাধ্যমিকে পাশ করার পর মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন।

এম বি মানিকের ‘বলো না তুমি আমার’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে তমা মির্জার। ২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলি পরিচালিত ‘নদীজন’ সিনেমায় অভিনয় করে ‘শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী’ বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

পার্শ্বনায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন শাহীন সুমনের ‘মনে বড় কষ্ট’ ছবিতে। অনন্ত হীরা পরিচালিত ‘ও আমার দেশের মাটি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তমা মির্জা একক নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর শাহাদাৎ হোসেন লিটনের ‘অহংকার’, দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘চল পালাই’, রয়েল খানের ‘গেইম রিটার্নস’ এবং মারিয়া তুষারের ‘গ্রাস’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। কাজ করছেন একাধিক ছবিতে।

সংবাদের ধরন : বিনোদন নিউজ : নিউজ ডেস্ক