বিস্তারিত

সৌদি যুবরাজ সালমানকে ট্রাম্পের হুমকি

ছবি : সংগ্রহকৃত

সৌদি আরব তেল সরবরাহ বন্ধ না করলে মার্কিন সামরিক সহায়তা হারাতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে তেলের মূল্য নিয়ে উত্তেজনা প্রশমনে সম্প্রতি সৌদিকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

২ এপ্রিল সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন ফোনে ট্রাম্প বলেন, জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক যদি তেল উত্তোলনে কাটছাঁট না করে, তবে সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে আইন পাসে আইনপ্রণেতাদের বিরত রাখতে তিনি অক্ষম হবেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা সৌদি নেতাদের বলেছিল, আমরা আপনাদের শিল্প রক্ষা করছি আর আপনারা আমাদেরগুলো ধ্বংস করছেন।

হুমকির ব্যাপারে গতকাল বুধবার ট্রাম্পের কাছে জানতে চায় রয়টার্স। ট্রাম্প জানান, এমবিএসকে হুমকি দিতে হয়নি তার। তিনি বলেন, এমবিএস ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খুবই যৌক্তিক ছিলেন। তারা জানতো তারা সমস্যার সম্মুখীন ও এরপর এটা হলো।

এমবিএসকে কী বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এমবিএস ও পুতিন চুক্তিতে পৌঁছতে পারছিলেন না। এজন্য এমবিএসের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তেল উৎপাদন কমাতে একটি চুক্তি নিশ্চিত করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের হুমকির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের মন্তব্য চেয়ে সাড়া পায়নি রয়টার্স। ট্রাম্প ও এমবিএসের ফোনালাপের এক সপ্তাহ আগে মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর কেভিন ক্র্যামার ও ড্যান সালিভান সৌদি তেল উৎপাদন না কমালে দেশটি থেকে সকল সামরিক সহায়তা প্রত্যাহারের একটি বিল উপস্থাপন করেন। ওপেক ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য প্রধান তেল উতপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন না কমানোয় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তেলের দাম কমেই চলেছিল।

গত ১২ই এপ্রিল ট্রাম্পের চাপের মুখে এক বৈঠকে তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক ও অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশ। দিনপ্রতি ৯৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়। তবে তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বাড়েনি।

প্রসঙ্গত, সৌদির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা শুরু ১৯৪৫ সাল থেকে। দুই দেশের মধ্যে অসংখ্য সামরিক চুক্তি রয়েছে। ইরানের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার উপর নির্ভরশীল সৌদি।

সংবাদের ধরন : আন্তর্জাতিক নিউজ : নিউজ ডেস্ক