বিস্তারিত

সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সেই ঘাতক কম্যান্ডোরা এবার লাদাখে

ছবি : সংগ্রহকৃত

সীমান্তে লাল ফৌজকে উপযুক্ত জবাব দিতে এবার লাদাখে হাজির পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে অংশ নেওয়া ঘটক কম্যান্ডো৷ অস্ত্র ছাড়া খালি হাতে লড়াই এদের বিশেষত্৷ চিনা সেনার সঙ্গে ১৫ জুনের সংঘাতের পর পূর্ব লাদাখের গলওয়ানে নজরদারি বাড়িয়েছে ভারত। উঁচু পাহাড়ে ঘেরা দুর্গম সংঘাতের ক্ষেত্রগুলিতে দ্রুত পৌঁছনোর জন্য মোতায়েন করা হয়েছে প্রশিক্ষণপ্রান্ত সেনা ও কম্যান্ডোকে। কাশ্মীর থেকে লাদাখে পাঠানো হয়েছে দুটি প্যারা কম্যান্ডো ইউনিটকে। এরমধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং দ্বিতীয়টি ইনফ্র্যান্টি ব্রিগেডের সঙ্গে ছিল। পাঠানো হয়েছে অতিরিক্ত সাত ব্যাটালিয়ন সেনাও। এবার পাঠানো হচ্ছে ভারতীয় সেনার ঘাতক বাহিনীর কম্যান্ডোদের। যে কাজ কেউ পারে না , তাও চোখের নিমেষে করে ফেলতে পারে এই ঘাতক বাহিনী৷ আগ্নেয়াস্ত্র তো দূর, খালি হাতেও শত্রু নিধনের ক্ষমতা রাখেন এই বিশেষ বাহিনীর কম্যান্ডোরা।

লাদাখে কারাটে, কুংফু বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছে চিন৷ ১৫ জুন সংঘর্ষের আগেই লাদাখে পৌঁছয় এই বিশেষ চিনা ফৌজ৷ হাতাহাতির পরিকল্পনা করেই চিনারা এদের পাঠায়৷আলোচনা নয় হাতাহাতিই টার্গেট ছিল চিনাদের৷

চিনা মার্শাল আর্টের উপযুক্ত জবাব দিতেই এবার LAC-তে মোতায়েন দুটি প্যারা কম্যান্ডো ইউনিট৷ কাশ্মীর থেকে লাদাখে পাঠানো হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে অংশ নেওয়া ঘাতক কম্যান্ডো বাহিনীকে৷

পাহাড়ি এলাকার সীমান্ত রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন পাহাড়ি এলাকার জওয়ানরা। আর চিনের সঙ্গে সীমান্তে, যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ, সেখানে বড় ভরসা ঘাতক বাহিনী। মিক্সড মার্শাল আর্ট আর এভারেস্টে চড়তে পটুদের সেনা বাহিনীতে নিয়ে টেক্কা দিতে চাইছে চিন। জবাব দিতে তৈরি আছে ভারতীয় সেনার ঘাতক বাহিনী।

চিনকে ঠেকাতে ভরসা ‘ঘাতক কমান্ডো’৷ ভারতীয় সেনার গর্ব এই বাহিনী৷ ব্যাটেলিয়নের অন্যদের সাহায্য ছাড়াই আচমকা পিছন দিক থেকে শত্রু শিবিরে হামলা চালাতে অত্যন্ত ঘাতক কমান্ডোরা। সাধারণত ২২ জনের বাহিনী থাকে এই কমান্ডোদের। এঁরা থাকেন পদাতিক বাহিনীর প্রতি ইউনিটের সঙ্গেই। পদাতিক বাহিনীর একটি ইউনিটে ৪০-৪৫ জন ঘাতক কমান্ডো আছেন।

ঘাতক কমান্ডোদের ৪৩ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয় কর্ণাটকের বেলগাঁওতে। শারীরিকভাবে সেরা জওয়ানদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ৩৫ কেজি বোঝা নিয়ে ছুটতে হয় টানা ৪০কিমি। বিভিন্ন অস্ত্র চালানোর পাশাপাশি খালি হাতে লড়াইয়ের জন্য দিন সাতেকের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ঘাতক কমান্ডোদের। তার মধ্যে থাকে মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণও।

সাল ২০১৫। মাত্র ৪০ মিনিটে মায়ানমারে ঢুকে গোটা একটা জঙ্গি দলকে শেষ করে দিয়ে ফিরে এসেছিল সেনার এই ঘাতক বাহিনী। যেমন তাদের দক্ষতা, তেমনই ক্ষিপ্রতা। ইজরায়েলের বিশেষ কম্যান্ডোদের আদলে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এই ঘাতক বাহিনী। কোনও আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াই খালি হাতে শত্রু নিধনের ক্ষমতা রাখেন এই বাহিনীর কম্যান্ডোরা। ক্ষিপ্র, ক্ষুরধার এই বাহিনীর কম্যান্ডোদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এই ধরনের স্ট্রাইকের জন্য।

উরিতে জঙ্গি হানায় নিহত জওয়ানদের মধ্যে ১৬ জন ছিলেন বিহার ও ডোগরা রেজিমেন্টের। বদলা নিতে সার্জিকাল স্ট্রাইকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ওই দুই রেজিমেন্টের ঘাতক কমান্ডোরা।কার্গিল যুদ্ধের টার্নিং পয়েন্ট টাইগার হিল দখল। সে কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ঘাতক কমান্ডো যোগেন্দ্র সিং।এবারও চিনকে মাত দিতে নিজেদের অভিজ্ঞ ও সবচেয়ে দক্ষ অস্ত্রেই ভরসা রাখছে ভারত৷

সংবাদের ধরন : আন্তর্জাতিক নিউজ : নিউজ ডেস্ক