বিস্তারিত

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আনন্দ মিছিলসহ সব কর্মসূচি পণ্ড

ছবি : সংগ্রহকৃত

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় আনন্দ মিছিলসহ সব কর্মসূচি বোমাবাজি, ভাঙচুর, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মুখে পণ্ড হয়ে গেছে।

আজ শনিবার সকালে ও দুপুরে দুই দফার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ১৫টি গুলি ছুড়েছে। এসব ঘটনা চলাকালে সাতক্ষীরা-যশোর সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেসকোর স্বীকৃতি পাওয়ার কারণে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে আনন্দ মিছিল ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আজ সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে দলীয় সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু কিছু লোক নিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টি করেন। ককটেলের শব্দে মুহূর্তে শিশুরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় তিনিসহ প্রশাসনের লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম ফের শুরু করে তা সমাপ্ত করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা পারভিনসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, ১২ জন কাউন্সিলর, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদকসহ অনেকে দোতলায় সভা করছিলেন।

ফিরোজ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, এ সময় আমিনুল ইসলাম লাল্টু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শাহজাদা ও সাবেক চেয়ারম্যান স ম মোরশেদসহ কয়েকজন নেতা উপজেলা অফিস ভবন ঘেরাও করে তাণ্ডব শুরু করেন। তাঁরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ইউএনও অফিস, চেয়ারম্যানের অফিস, এলজিইডি, পরিসংখ্যান অফিস, নির্বাচন অফিসসহ বেশ কয়েকটি অফিস ভাঙচুর করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান অফিসের পিয়ন মশিয়ার রহমান এ সময় আহত হন। লাল্টুর নেতৃত্বে গ্রুপটি তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের পর তাঁরা বেরিয়ে আসেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন, দলের সভাপতির অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘সকালের কর্মসূচিতে আমাকে বক্তৃতা করতে না দেওয়ায় ফুঁসে ওঠেন নেতাকর্মীরা। এ সময় চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। ফিরোজ  আহমেদের লোকজন আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তিনি পৃথক পথসভা করতে থাকায় সেখানেও হামলা করে ভাইস চেয়ারম্যান আরাফাতের সমর্থক শাহীন, রানা, শহিদ, বাবলু, ইমরান, তুহিনসহ বেশ কয়েকজনকে আহত করেন।

লাল্টু বলেন, বোমাবাজি, ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ কোনো অঘটনের সঙ্গে তিনি ও তাঁর সমর্থকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এসব ঘটনার জন্য দায়ী ফিরোজ আহমেদ নিজেই।

এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার কলারোয়া থানায় গিয়ে বৈঠকে বসেন।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : নিউজ ডেস্ক