বিস্তারিত

সাতক্ষীরার এসপি ও পাঁচ ওসিকে ইসিতে তলব

prothom alo ছবি : সংগ্রহকৃত

bd news,bdnews,bdnews24,bdnews24 bangla,bd news 24,bangla news,bangla,bangla news paper,all bangla newspaper,bangladesh newspapers,all bangla newspaper,bangla news paper,bangladesh newspapers,all bangla newspapers,bd news 24,bangla news today,bd news paper,all bangla news paper,bangladeshi newspaper,all bangla newspaper,all bangla newspapers,bdnews,bangla news,bangla newspaper,bangla news paper,bangla news 24,banglanews,bd news 24,bangla news today,bd news paper,all bangla news paper,bangladeshi newspaper,all bangla newspaper,all bangla newspapers

নির্বাচনী অনিয়ম ঠেকাতে ব্যর্থতার কারণে সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির এবং পাঁচ থানার ওসিদের তলব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে জেলার ১১ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ১১ উপপরিদর্শককে। এসব কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে বাদী হয়ে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোট শেষ হওয়ার পর রাতে কমিশনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত চিঠি পেঁৗছায় সংশ্লিষ্টদের কাছে। পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ অন্য চার কমিশনারকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। তবে আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকার ব্যাপারে কমিশনের এক সদস্য দ্বিমত পোষণ করেন। কমিশন সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের ওই সদস্য এ সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেননি। এদিকে ইসি

সচিবালয় থেকে গতকাল প্রথম ধাপের ৭১২টির মধ্যে ৫২২টি ইউপির ফল বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৭৩ দশমিক ৮২ ভাগ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫৪ দশমিক ৫৬ ভাগ আর বিএনপি পেয়েছে ১৬ দশমিক ৭৮ ভাগ ভোট।

ইসি-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম দফায় নির্বাচনে দেশের ৩৬ জেলায় প্রায় সাত হাজার কেন্দ্র ছিল। কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ নানা অভিযোগে ১৩ জেলার ৬৫টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের প্রত্যেকটি ঘটনায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার রাতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন ও অন্য কমিশনাররা জরুরি বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ওই রাতেই ইসির উপ-সচিব সামসুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১১ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ১১ এসআইকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, সাতক্ষীরায় ১৪টি কেন্দ্রে ভোটের আগের রাতে কেন্দ্র দখল করে সিল মারা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্রের কর্তব্যরতরা গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তদের মোকাবেলার চেষ্টা করেছেন। বাকি ১১টি কেন্দ্রের কর্তব্যরতরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করার জন্য সাতক্ষীরার এসপি এবং তালা, শ্যামনগর, কলারোয়া, দেবহাটা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঢাকায় কমিশন কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে।

ইসি-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন অফিসার, রিটানির্ং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও থানার ওসির কাছে ইসি সচিবালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে সাতক্ষীরা জেলার বন্ধ ঘোষিত ১৪ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে থানায় মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে মামলা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, লুট হওয়া ব্যালট পেপার যাচাই করে যে প্রার্থীর পক্ষে সিল মারা হয়েছে, ওই প্রার্থীকে প্রধান আসামি এবং গ্রেফতার করতে হবে। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে সংঘটিত ঘটনার আলামত (সিলমারা ব্যালটসহ অন্যান্য আলামত) দ্রুত সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে সংরক্ষণ করতে হবে। এসব বিষয়ে নির্দেশ বাস্তবায়নের পর কমিশনকে অবহিত করতে হবে। স্থগিত হওয়া অন্যসব কেন্দ্রের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম জানান, সবগুলোর বিষয়েই কমিশন মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনিয়মের অভিযোগে ৬৫ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হলেও সাতক্ষীরার এসব কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা পুলিশের সহায়তা চেয়েও পাননি। স্থানীয় পর্যায় থেকে এই ১১ কেন্দ্রের বিষয়ে কমিশনের কাছে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালা উপজেলার কুমিরা ইউপির ভাগবহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোর ৪টার দিকে ৭০-৮০ জনের একটি দল ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে সিল মারা শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আট রাউন্ড গুলি ছোড়ে। অভয়তলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটের আগের রাত ৩টার দিকে তালা ভেঙে কেন্দ্রে ঢুকে সিল মেরে বাক্সভর্তি করে রাখা হয়। দাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের আগে রাত আড়াইটায় ৬০০ থেকে ৭০০ ব্যালটে সিল মেরে বাক্সভর্তি করা হয়।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের আগের রাতে এক হাজার ২০০ ব্যালটের প্রত্যেকটিতে তিনটি করে সিল মেরে রাখা হয়। মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক হাজার ৫০০ ব্যালটে সিল মেরে রাখা হয়। ভাড়ূখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে ঢুকে দুই হাজার ১০০ ব্যালট পেপারে সিল মেরে রাখা হয়। কাছাকাছি সময়ে গাংনিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে ঢুকে তিন হাজার ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়।

জেলার শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়নের কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার রাতে পুলিশের পোশাকধারীরা অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারকে আটকিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারে এবং তাকে মারধর করে। কৈখালী মহাজেরিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের পোশাক পরে অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ১৩০০ ব্যালট পেপার ছিনতাই করা হয়। শৈলাখালী এমইউ দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটের আগের রাতে প্রিসাইডিং অফিসারকে আটকে রেখে ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়।

কলারোয় উপজেলার কুশডাঙ্গা ইউনিয়নের কলাটুপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের পোশাক পরে প্রিসাইডিং অফিসারকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ৮০০ ব্যালটে নৌকার সিল ও ৩০০ ব্যালটে তালা মার্কায় সিল মেরে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। শাকদহ দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটের আগের রাত ৪টার দিকে কেন্দ্রে ঢুকে ৬০০ চেয়ারম্যান পদের ব্যালট এবং ৩০০ মেম্বার পদের ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়া হয় পুলিশের সামনেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নীরব ভূমিকা পালন করেন। কেরালকাতা ইউনিয়নের বলিয়ানপুর কেন্দ্রে ভোটের দিন সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জিম্মি করে ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের কেজুরবাড়িয়া কেন্দ্রে ভোটের আগের রাতে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে একই কায়দায় ৩৫০ ব্যালট পেপার সিলসহ নিয়ে যায়। এ সময় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি।

ভোটার উপস্থিতির হার ৭৪ শতাংশ :ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট। ৫২২টি ইউপির ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এই ইউপিগুলোয় ভোট পড়েছে ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার ৭০৫টি।

গতকাল বিকেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ৭৩ দশমিক ৮২ শতাংশ ভোট পড়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। প্রথম ধাপের নির্বাচনে ১৭টি দল অংশ নিলেও জয় পেয়েছেন সাতটি দলের প্রার্থীরা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৯৪টি ইউপিতে বিজয়ী হয়েছে। ভোট পেয়েছে ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫৮২টি। বিএনপি ৩৫ ইউপিতে বিজয়ী হয়েছে। ভোট পেয়েছে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৮৮টি। জাতীয় পার্টি-জেপি সাতটি ইউপিতে জয়লাভ করেছে। ভোট পেয়েছে ৬৫ হাজার ৩৫৬টি। জাতীয় পার্টি-জাপা একটি ইউপিতে জয়ী হয়েছে। দলটি ভোট পেয়েছে ৬০ হাজার ৪২টি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ৩টি ইউপিতে জয় পায়। ভোট পেয়েছে ৩৭ হাজার ৪৩১টি। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ২টি ইউপিতে জয়ী হয়। ভোট পেয়েছে ৩৫ হাজার ৬২৫টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি ইউপিতে বিজয়ী হয়েছে। ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৬৮টি। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭৯টি ইউপিতে জয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন ১৫ লাখ ৬১ হাজার ২৯৯টি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো ইউপিতে জয়লাভ করতে পারেনি।

গতকাল ইসি সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমে ভোটারদের ভোট দেওয়ার যে তথ্য এসেছে, তাতে উৎসাহিত হয়েছি। পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন।

দলীয় প্রতীকে প্রথম অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে গোলযোগ-অনিয়মের কারণে ৬৫ কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে ইসি। ভোটের দিন ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতায় আরও ১০ জন নিহত হন।

সংবাদের ধরন : র্শীষ সংবাদ নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার