বিস্তারিত

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন..

ছবি : সংগ্রহকৃত

জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান এবং সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আজ বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসংবাদ সম্মেলনের শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। সপ্তাহব্যাপী সেখানে অবস্থান করে ১ অক্টোবর দেশে ফেরেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রতিবারের মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেন। তাঁর ভাষণে চলমান রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যকার চুক্তির বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী আজকের সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সেই সব বিষয় তুলে ধরেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সবাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিতে বিশ্বাস করে। যারা এটি নষ্ট করতে চায় তারা বিকৃত মানুষিকতার লোক। এদের ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতা ও জনগণকে এগিয়ে আসা দরকার। সাইবার সিকিউরিটি আইন করা হয়েছে যাতে কারো কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কেউ কোনো নোংরামি করতে না পারে। এমনকি কেউ যেনো কোনো কিছু নিয়ে সামাজিক সন্ত্রাস তৈরি করতে না পারে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু তারা ফেরত নিয়েছে, বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে কেউ আমাকে কোনো পরামর্শ দেয়নি। বরং যাদের সাথে কথা বলেছি, তারাই আমাকে উইশ করেছে যেন আমি আবার ক্ষমতায় আসি। তাই জনগণ ভোট দিলে আছি, না হলে নাই। সবাই আন্তরিকভাবে চেয়েছে যেন আবার আমরা ক্ষমতায় আসি।

আগামীতে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না এবং কেমন ষড়যন্ত্র মনে করছেন জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ষড়যন্ত্রের একটি উর্বর ভূমি। এখানে সব সময় ষড়যন্ত্র হয়েছে। গত সাড়ে ৯ বছর আমরা ক্ষমতায়। অনেক উন্নয়ন করেছি। কিন্তু এমন কী করেছি যে কারণে আমাদের রিজাইন দিতে হবে, ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে হবে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা চিন্তা করে সরকার পড়ে যাবে, সরকার উৎখাত হবে আর তারা ক্ষমতায় আসবে, তারা সব সময় ষড়যন্ত্র করবেই। আর সেটি চরিতার্থ করতেই দেশে মানুষকে বিপদে ফেলবে। যাদের ব্যক্তিস্বার্থ আর নিজেদের আকাঙ্ক্ষা আছে তাদের একটি ষড়যন্ত্র ছিলো, আছে, থাকবে। সেই জন্য সবাইকে সাবধান থাকতে বলেছি। কারণ বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর থেকে দেশে ১৯ টি ক্যু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ১০ বছরের শাসনামলে দেশের ৬৪ ভাগ মানুষ সন্তুষ্ট। এটা তো আমরা করিনি, আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণার রিপোর্ট। তাহলে অসন্তুষ্ট কারা? আমরা তো দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গঠন করেছি। মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করেছি, তরুণ সমাজকে উন্নত জীবন দিয়েছি। তারপরেও পত্রিকা খুলে দেখি কোথাও এতটুকু এটা হয়নি, ওটা হয়নি, এতেই তাদের আত্মতুষ্টি। কারণ তারা জনগণের জন্য ক্ষমতায় যেতে চায়নি।

সংবাদের ধরন : শিরোনাম নিউজ : নিউজ ডেস্ক