বিস্তারিত

ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থেমে নেই : শেখ হাসিনা

bdnews,bd news,bangla news,bangla newspaper ,bangla news paper,bangla news 24,banglanews,bd news 24,bd news paper,all bangla news paper,all bangla newspaper ছবি : সংগ্রহকৃত

পরাজিত শক্তির দোসরদের দেশের উন্নয়ন ভালো লাগে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরাজিত শক্তির দোসরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে ব্যর্থ হলেও তাদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থেমে নেই। দেশ যখন সবক্ষেত্রে উন্নয়নের পথে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে তখন সরকারকে বাধা দিতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। শুধু দেশেই নয়, ভেতরে বাইরে অনেক জায়গা থেকেই বারবার বাধা আসে। সেই বাধা অতিক্রম করেই এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবোই।

কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর খামার বাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এ সময় ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারাদেশে দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে এ নির্বাচনেও বিএনপির তেমন গরজ নেই। তারা শুধু নানা কথার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, সারাদিন নালিশ করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের কর্মকান্ডটা কোথায়? শুধু নালিশ করা।

তো নালিশ করে কী হচ্ছে-নালিশ করে বালিশ পায়, ভাঙা জুতার বাড়ি খায়।’ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সতীশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আহমদ হোসেন, ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। ইউপি নির্বাচনেও বিএনপি জনগণের সমর্থন পাচ্ছে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতি দেশের জনগণ মেনে নেয়নি। আসলে বিএনপি নেত্রী যেভাবে নির্বিচারে জ্বালাও-পোড়াও ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে এটা কোনো আন্দোলন নয়, এটি ছিল সম্পূর্ণ হত্যাকাণ্ড। এ কারণেই জনগণ তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

বিএনপির কাউন্সিলে বিদেশী অতিথি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এক ব্রিটিশ এমপিকে নিয়ে আসলেন, সে ওই দেশে তিন মাসের জন্য সাসপেন্ড হয়েছে। আসলে কথায় বলে, রতনে রতন চেনে।’ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনা বলেন, একজন নেত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেলেন। কিন্তু তার মুখ ছিল করুণ, কোনো হাসি ছিল না। হাসি থাকবে কোত্থেকে? তার পেয়ারের যুদ্ধাপরাধীদের একে একে ফাঁসি হচ্ছে, শাস্তি হচ্ছে। তার প্রতি দেশের জনগণের কোন সমর্থন নেই। দেশের জনগণকে যখন উনি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা করেন, তখন তার মুখে হায়েনার মতো হাসি ফুটে। তাই এখন তার মুখে কোনো হাসি নেই। কারণ উনার হৃদয়ে তো পেয়ারে পাকিস্তান! পাকিস্তান বেকায়দায় থাকলে উনার মুখ করুন হয়, কোন হাসি থাকে না। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিজয়ী জাতি।

আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো। কারো কাছে মাথানত করবো না। ভিক্ষা করে চলবো না। নিজেদের আয়-সামর্থ্য দিয়ে চলবো। নিজেদের সৎপথের পয়সায় ডাল আর মোটা চালের ভাত খাবো, ভিক্ষা করে বা কারোর কাছে হাত পেতে বিরানি খাব না। দেশের মানুষকেও এমন আত্মবিশ্বাস নিয়েই কাজ করে যেতে হবে।’ পঁচাত্তর পরবর্তী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ পেতে শুরু করেছে-তখনই জনগণকে বিভ্রান্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ওই সময় কারা কাদের মদদে এবং টাকা নিয়ে এসব করেছে তা এখন গবেষণার বিষয়। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারী জিয়াউর রহমান একাত্তরের গণহত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে তাদের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে একটি প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানতেই দেয়নি।

পরাজিত শক্তিকে ক্ষমতায় বসিয়ে ২১টি বছর দেশের জনগণকে শোষণ ও নির্যাতন করেছে। ১৮-১৯টি ক্যু’র ঘটনায় সব মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারকে হত্যা করেছে। দেশের কোনো মানুষের মধ্যে শান্তি ও আশা ছিল না। প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে তাদের চলতে হয়েছে। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। দেশের নতুন প্রজন্ম এখন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ২৪ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বহু দেশেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। ওইসব দেশে বহির্বিশ্বের যেসব দেশ মিত্র বাহিনী দিয়ে সহযোগিতা করেছে, পরবর্তীতে তারাই ওই দেশে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। মিত্রবাহিনী সেসব দেশে এখনও রয়ে গেছে।

কিন্তু পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র ব্যতিক্রম দেশ যেখানে মিত্রবাহিনী ঘাঁটি গেড়ে বসেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার জন্য এতো আত্মত্যাগ, এতো রক্ত আর কোনো জাতি দেয়নি- যা বাঙালীকে দিতে হয়েছে। এতো রক্তদান বৃথা যেতে পারে না, আমরা বৃথা যেতে দেবোও না। উন্নত-সমৃদ্ধ ও সুখী-সুন্দর দেশ গড়ে আমরা স্বাধীনতার মর্যাদা রাখবো। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলবো।

সংবাদের ধরন : শিরোনাম নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার