বিস্তারিত

শীতলক্ষ্যায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ শনাক্ত, ৫ নারীর মরদেহ, ২০ জীবিত উদ্ধার

ছবি : সংগ্রহকৃত

শীতলক্ষ্যা নদীতে কোস্টার ট্যাংকারের ধাক্কায় সাবিত আল হাসান নামে মুন্সিগঞ্জগামী একটি লঞ্চ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৫ জন নারীর লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা।

রবিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর চর সৈয়দপুর এলাকার ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে একজন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আরো এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর রাত ১১টার দিকে আরো একজন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ রাত সাড়ে ১১টার দিকে আরো দুজনের লাশ উদ্ধার হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

এছাড়া রাত ১০টা পর্যন্ত আরো ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহসহ উর্ধ্বতনরা উদ্ধার কাজ পর্যবেক্ষণে আসছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ও ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। খুব শিগগিরই লঞ্চটি ওপরে তোলা হবে। ইতিমধ্যে ৫ জন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টির কারণে আমাদের উদ্ধার কাজ ব্যহত হচ্ছে। আমাদের কার্যক্রম চলছে।

জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার কিছু সময় পরে লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জের দিকে রওনা দেয়। একটি ট্যাংকারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এটি ডুবে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ডুবে যাওয়া লঞ্চটি থেকে সাঁতরে তীরে ওঠা মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা শ্রমিক আলম মিয়া জানান, আমি লঞ্চের পেছনের ছাদে ছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি কার্গো জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে আমাদের লঞ্চটিকে ভাসিয়ে ব্রিজের নিচে নিয়ে আসে। পরে লঞ্চটি ডুবে যায়। আমি ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হই। কিন্তু লঞ্চে প্রায় ৫০-৬০ জন যাত্রী ছিল। তাদের মধ্যে ২০ জন হয়ত সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছে।

সন্ধ্যার পর থেকেই নদীর তীরে নিখোঁজ ও নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে আশপাশের পরিবেশ।

 

সংবাদের ধরন : র্শীষ সংবাদ নিউজ : নিউজ ডেস্ক