বিস্তারিত

শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজে হামলা, এমডির স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ২

ছবি : সংগ্রহকৃত

রাজশাহীর বেসরকারি শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার এবং দ্রুত শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন বাস্তবায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে শত শত শিক্ষার্থী এই কর্মসূচি পালন করে।

সকালে কলেজ প্রচুর পুলিশ সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ব্যানার টাঙিয়ে ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। তাদের পাশে অভিভাবকরাও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কর্মসূচির মধ্যেই নীতিমালা অনুযায়ী শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা দেখতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ কে এম আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি টিম কলেজটি পরিদর্শন করেছে।

এ সময় কমিটির সদস্যরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। কমিটির সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানান এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে দায়িত্ব দেন। পরে তারা কলেজ ক্যাম্পাসে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের সাতজনের দল প্রতিটি বিভাগে গিয়েছি, প্রতিটি ল্যাবরেটরিতে গিয়েছি। আমারা যা পেয়েছি তা লিখেছি। কিন্তু এটা এখানে বলার বিষয় না, নিয়মও নাই। এখানকার যে পরিস্থিতি সেটা আমরা আমাদের মতো করে দেখব এবং সরকার আমাদের এখানে পাঠিয়েছে ভালটা নির্ণয় করার জন্য। যেটা জনগণ, শিক্ষার্থীদের জন্য এবং সবার জন্য ভাল হবে সেটাই আমরা করবো।

এ সময় মাইগ্রেশনের ব্যাপারে জানতে চাইলে, মাইগ্রেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এজন্য প্রাথমিক একটি তালিকা করা হয়েছে। আমরা এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা মাইগ্রেশনটা বাস্তবায়ন করতে পারবো। আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। কারণ, এই পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের।

গত ২ নভেম্বর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের অনুমোদনহীন শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কলেজটিতে ভর্তি হওয়া ২২৫ জন শিক্ষার্থীকে মাইগ্রেশন করে অন্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা নিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। এরপর থেকে কলেজটি বন্ধ ছিল। ২০১৩ সাল থেকে বিশেষ শর্তে এই মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়।

এরপর শিক্ষার্থীরা গত ৮ নভেম্বর ক্যাম্পাসে সমাবেশ করে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করার জন্য কর্তৃপক্ষের শাস্তি দাবি করে। আর কোনো শিক্ষার্থী যেন শুধু ব্যবসার কারণে এভাবে প্রতারিত না হয় এ ব্যাপারেও তারা সরকারের পদক্ষেপ কামনা করে।

এর মধ্যেই গতকাল শুক্রবার বিকেলে শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগত দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়। আহত শিক্ষার্থীরা জানায়, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী হলে শীতের কাপড় আনতে গেলে হামলার শিকার হয়। মারধরে অনেকের শরীরে জখম হয়, রক্ত ঝরে। কারো কারো জামা-কাপড় ছিঁড়ে যায়। এ সময় হামলাকারীদের ছবি তুলতে গেলে তাদের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয় এবং তা ভেঙে ফেলা হয়। পরে তাদেরকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। আহতরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এই হামলার ঘটনায় মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনিরুজ্জামান স্বাধীনকে। এরপর পুলিশ হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে কলেজের এমডি মনিরুজ্জামান স্বাধীনের স্ত্রী বিউটি বেগম ও ছোট ভাই মাহাদি হাসান মিঠুকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার প্রধান আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকেসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : নিউজ ডেস্ক