বিস্তারিত

শরীয়তপুরে কোরআন নিয়ে শিক্ষকের কটুক্তি, বিক্ষোভ

ছবি : সংগ্রহকৃত

জাজিরার জয়নগর জুলমত আলী উচ্চবিদ্যালয়ের তপন চন্দ্র বাড়ৈই নামের এক সহকারী শিক্ষক নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান ক্লাসে রসায়ন পড়াতে গিয়ে পবিত্র কোরআন, ইসলাম ধর্ম ও নামাজ নিয়ে কটূক্তি করেছে। এ নিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সমাবেশের তোপের মুখে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে জাজিরা থানা পুলিশ শিক্ষককে আটক করে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রধান শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ওজাজিরা থানা সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার জুলমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তপন চন্দ্র বাড়ৈই ২০১৫ সালে ১ অক্টোবর বিএসসি পদে যোগদান করে। সে বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার কুরুলিয়া গ্রামের শ্রী নিবাস চন্দ্র বাড়ৈর ছেলে। তিনি গত মঙ্গলবার বিজ্ঞান শাখার রসায়ন ক্লাস নিতে গিয়ে ছাত্র- ছাত্রীদের উদ্দেশ করে বলে, কোরআন বাস্তব সম্মত নয়, কিন্তু বিজ্ঞান বাস্তব সম্মত। কোরআন কিছু দিতে পারে না বলে মুসলমানরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। এ কারণে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা অর্থনৈতিকভাবে সবল। বৌদ্ধধর্মে নারীদের গুরুত্ব বেশি। কোরআন নারীদের অধিকার দিতে পারে না। মুসলমানরা নামাজ পড়ে শরীরের চর্বি কমানোর জন্য। মানুষ প্রকৃতির নিয়মে জন্মে এবং প্রকৃতির নিয়মে মারা যায়।
এ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্লাসে থাকা ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকের কাছে জানতে চায়, স্যার আপনি কোন ধর্মে বিশ্বাস করেণ। এর জবাবে শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে বলে আমি কোনো ধর্ম বিশ্বাস করি না। আমি বিজ্ঞানে বিশ্বাসী।
এর জের ধরে ওই শিক্ষকের অপসারণ ও বিচার দাবিতে আজ বুধার সকালে আশপাশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় হাজার হাজার লোকজন জয়নগর জুলমত আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয় ঘেরাও করলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র বালা জাজিরা থানা পুলিশকে খবর দেয়।
পরে জাজিরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে ছাত্র-ছাত্রীরা ওই শিক্ষকের অপসারণ ও বিচার দাবী করলে তাৎক্ষণিক সহকারী শিক্ষক তপন চন্দ্র বাড়ৈকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে বিক্ষোভকারীরা এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। জাজিরা থানা পুলিশ শিক্ষক তপন চন্দ্র্র বাড়ৈকে আটক করে জাজিরা থানায় নিয়ে যায়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জয়নগর জুলমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র মিরাজুল ইসলাম ও ৮ম শ্রেণীর তারিক বলেন, আমাদের তপন স্যার গতকাল ক্লাসে গিয়ে বলেছেন ইসলাম কোনো ধর্ম নয়, কোরআন কিছুই না, বিজ্ঞান বাস্তব সম্মত। শরীরের চর্বি কমানোর জন্য মুসলমানরা নামাজ পড়ে। তিনি ইসলাম না মেনে বৌদ্ধধর্ম মানার জন্য বলেন আমাদেরকে। এ কারণে আমরা বিক্ষোভ করেছি। আমরা তপন স্যারের বিচার চাই।
জয় নগর আয়াতুন্নেছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মান্নান খান ও আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শিক্ষক তপন চন্দ্র বাড়ৈ কোরআন, ইসলাম ও নামাজ নিয়ে কটাক্ষ করেছে। তিনি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কোরআন পড়া ছেড়ে দিয়ে বিজ্ঞান পড়তে বলেছে। এ কারনে আজকে বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রীরা স্কুল মাঠে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
জয় নগর নুরিয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা তাজুল ইসলাম সেলিম, জয়নগর বাজার মসজিদের খতিব মাওলানা, আব্দুল্লাহ ইউনুছ ও মাওলানা গোলাম মোস্তফা বলেন, শিক্ষক তপন চন্দ্র বাড়ৈ ইসলাম, কোরআন ও ধর্ম নিয়ে যে কটূক্তি করেছেন এটা তার চরম ধৃষ্টতা। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জয়নগর জুলমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র বালা বলেন, এ ঘটনার পর ছাত্র ছাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে । পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করি এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করি।
জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ ইসমাইল খান বলেন, শিক্ষক ধর্ম ও কোরআন সম্পকে যে অন্যায় বক্তব্য দিয়েছেন এটা চরম অপরাধ। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই ।
এ ব্যাপারে জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা জয়নগর জুলমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তপন চন্দ্র বাড়ৈ ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কটূক্তি করার কারনে তাকে আটক করেছি । ওই ¯বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামলা করেছেন। তার বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

সংবাদের ধরন : শিক্ষা নিউজ : মেহেবুবা খানম