বিস্তারিত

শক্তিশালী গ্যাং আছে ইরফানের

ছবি : সংগ্রহকৃত

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম পুরান ঢাকায় তার নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলাসহ, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব চালিয়ে আসছিলেন। তার দেহরক্ষী হিসেবে ১২ জন্য সবসময় তার পাশেই থাকতেন। ৭০ জনের বেশি সদস্যের এক শক্তিশালী গ্যাং আছে ইরফানের। তাদের সাথে ওয়াকিটকির মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন ইরফান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদুলের কাছ থেকে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, ইরফানের অধিকাংশ দেহরক্ষীর কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে। এই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের চেয়ে ভয়ভীতি দেখানোর কাজে বেশি ব্যবহার করা হতো। এই অবৈধ অস্ত্রগুলো বিদেশ থেকে নিয়ে আসা। একইদিন তার দেহরক্ষী জাহিদুলের কাছ থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব।

ইরফান দেহরক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত মদ পান করতেন। নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহম্মেদ এর সাথে মারধরের ঘটনার দিনও তিনি মাদক সেবন করেছিলেন। মদ খেয়ে মাতাল অবস্থাতেই মারধর করেন তিনি। ওইদিন রাতে আবার দাদাবাড়ীর চারতালায় নিজের বারে ঢুকে সারারাত মদ পান করেন ইরফান। অভিযান চলাকালীন সময়েই র‍্যাব তার ডোপ টেস্ট করে, সেটার রেজাল্টও পজিটিভ আসে।

স্থানীয় লোকজন ও র‌্যাব সূত্র জানা গেছে, ইরফান সেলিম সুঠাম দেহের অধিকারী এসব দেহরক্ষীকে তিনি নিজেই নিয়োগ দেন। ইরফান বা তার পরিবারের কেউ বাসভবনের বাইরে গেলে অন্তত আধাঘণ্টা আগেই ভিভিআইপি প্রটোকলের মতো করে চকবাজারের বিভিন্ন সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হতো। তারা বাসায় ফেরার আগে একই কাজ করত ওই দেহরক্ষীরা।

স্থানীয়রা জানান, ইরফান বা তার পরিবারের যাতায়াতের সময়ে কেউ রাস্তায় থাকলে বা ভুলে কোনো রিকশা-গাড়ি রাস্তায় ঢুকলে তাদের বেদম পেটানো হতো। ওই ৪০ দেহরক্ষীর বাইরে অন্তত ১০০ বেতনভুক্ত ক্যাডার রয়েছে ইরফানের।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে চকবাজার থানায় ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি করে মোট চারটি মামলা করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টা মামলায় কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে পুলিশের করা আবেদনের শুনানি হবে আজ বুধবার। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতকাল মঙ্গলবার এই আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশফাক রাজীব হাসান। আজ বুধবার সকাল পৌনে ১১টায় তাঁদের আদালতে আনা হয়েছে।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : নিউজ ডেস্ক