বিস্তারিত

শক্তিশালী আম্পান তাণ্ডব চালাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে, লন্ডভন্ড দিঘা

ছবি : সংগ্রহকৃত

ভয়াল গতিতে সুন্দরবনেই আছড়ে পড়ে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্পান। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ওই অতি মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়ে।

সেই সময় ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণনের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার ছিল। কলকাতায় সেই ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে ট্রাফিক সিগন্যাল। ইতোমধ্যেই কলকাতার অন্তত ১৮টি জায়গায় গাছ পড়ে গেছে। কলকাতায় সব ফ্লাইওভার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এর জেরে লন্ডভন্ড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কলকাতা-সহ দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অবস্থাও ভয়াবহ। হাজার হাজার কাঁচাবাড়ি এবং গাছপালা ভাঙার খবর আসছে এই সব জেলা থেকে। তবে বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এর অনেক গুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

ঝড়ের তাণ্ডবে ফুঁসছে সমুদ্র। ভয়াল রূপ ধারণ করেছে দিঘার সমুদ্র। সৈকতের গার্ডওয়াল টপকে ঢেউ উঠে আসছে রাস্তায়। ঝড়ের সঙ্গেই চলছে তুমুল বৃষ্টি। অন্যদিকে কাকদ্বীপেও চলছে প্রবল ঝড়। ঘণ্টায় ১৬৭ কিমি বেগে ঝড় হচ্ছে কাকদ্বীপে। দিঘা, রামনগর, মন্দারমনি, কাঁথি, হলদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছে। মন্দারমনিতে কয়েকটি হোটেলে জল ঢুকে গেছে।

কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটা নাগাদ আম্পান ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিমি বেগে ঝড় বইছে দিঘা উপকূলে। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে কার্যত লন্ডভন্ড দশা এখন দিঘার। দিঘায় প্রবল ঝড় চলছে। ঝড়ের দাপটে দিঘা রেলস্টেশনের করোগেটেড শিট (চাল) উড়ে গিয়েছে।

এদিকে নিউ দিঘা থেকে ওল্ড দিঘা যাওয়ার রাস্তায় ভেঙে পড়ল গাছ। ওল্ড দিঘা ও নিউ দিঘার মধ্যে বিচ্ছিন্ন আছে সড়ক যোগাযোগ। দিঘা রেলস্টেশনের সামনেও ভেঙে পড়েছে একের পর এক গাছ ও বন বিভাগের সাইনবোর্ড। প্রবল জলোচ্ছ্বাস বইছে দিঘার সমুদ্রে। ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে দিঘা সৈকতের গার্ডওয়াল পেরিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রের ঢেউ। মন্দারমনি, কাঁথিসহ জেলাজুড়ে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি চলছে।

সংবাদের ধরন : র্শীষ সংবাদ নিউজ : নিউজ ডেস্ক