বিস্তারিত

লজ্জায় নির্বাচন থেকে বের হওয়ার চিন্তার করছে বিএনপি : হানিফ

bdnews,bd news,bangla news,bangla newspaper ,bangla news paper,bangla news 24,banglanews,bd news 24,bd news paper,all bangla news paper,all bangla newspaper ছবি : সংগ্রহকৃত

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে বিএনপির ইঙ্গিতের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম দুইদফা নির্বাচনে বিএনপি জনগণের কাছে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। সে কারণে তাদের চরম ভরাডুবি হয়েছে। তাই লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে বিএনপি এখন নির্বাচন থেকে বের হওয়ার চিন্তা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এখানে প্রতিটি জনগণ ও রাজনৈতিক দলের অধিকার আছে নির্বাচনে অংশগ্রহনের ও বর্জনের। সে হিসেবে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত যে কেউ নিতেই পারে। কেউ যদি ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন বর্জন করতে চায় তাহলে তো অন্য কারো কিছু বলার থাকে না। তবে বিএনপিকে সুস্থ্য রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসতে হলে এই ব্যর্থতা মেনে নিতেই হবে।

আজ শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কাযালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, হঠাৎ করে বিএনপি নির্বাচন বর্জনের কথা ভাবছে কেন। কারণ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুঃশাসনের জন্য জনগণ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এরপর ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে যে ভুল করেছিল, তার জন্য জনগনের ওপর খড়গ চালিয়েছিল। সেজন্য জ্বালাও-পোড়াও করেছিল, মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিল। সে কারণে জনগণ এখন বিএনপির সাথে নেই।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, উন্নয়নের জন্য বর্তমানে জনগণ আমাদের প্রতি আস্থাশীল। যুক্তরাষ্ট্রের একটি জরিপেও দেখা গেছে যে ৮০ ভাগ মানুষ শেখ হাসিনার সরকারের সুশাসনের প্রতি আস্থাশীল। ভোটেতো তার প্রতিফলন ঘটবে, এটাই স্বাভাবিক।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের উদ্বেগ প্রকাশ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, বিদেশি কোনো মানুষ দেখলেই আমরা মনে করি সে সাক্ষাৎ ভগবান। আজকে গোটা বিশ্বে রাজনৈতিক ও সামজিকসহ নানা ধরণের অস্থিরতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিয়ত হত্যার ঘটনা ঘটছে, এর মানে কি সেদেশের সরকার ব্যর্থ? আমরা এ ধরণের সহিংসতা চাই না। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

এর আগে ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি উপলক্ষে দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, কার্যনির্বাহী সদস্য এনামুল হক শামীম ও আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

সভা শেষে মাহবুবউল আলম হানিফ মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, এদিন ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা কার্যালয়সহ সব শাখায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ। এছাড়া মুজিবনগরে ভোর ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও সকাল সাড়ে ১০টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার