বিস্তারিত

রিজার্ভের অর্থ দুই বিদেশীর সাহায্যে ফিলিপাইনে ঢুকে

bdnews,bd news,bangla news,bangla newspaper ,bangla news paper,bangla news 24,banglanews,bd news 24,bd news paper,all bangla news paper,all bangla newspaper ছবি : সংগ্রহকৃত

bd news,bdnews,bdnews24,bdnews24 bangla,bd news 24,bangla news,bangla,bangla news paper,all bangla newspaper,bangladesh newspapers,all bangla newspaper,bangla news paper,bangladesh newspapers,all bangla newspapers,bd news 24,bangla news today,bd news paper,all bangla news paper,bangladeshi newspaper,all bangla newspaper,all bangla newspapers,bdnews,bangla news,bangla newspaper,bangla news paper,bangla news 24,banglanews,bd news 24,bangla news today,bd news paper,all bangla news paper,bangladeshi newspaper,all bangla newspaper,all bangla newspapers

বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে ফিলিপাইনের অন্যতম সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী কিম সিন অং যিনি কিম অং নামে পরিচিত জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮১ মিলিয়ন ডলার দুই বিদেশীর হাত ধরে ফিলিপাইনের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। ওই দুই বিদেশী কারা তা সরাসরি জানাতে তিনি অস্বীকার করেন। তবে একটি সিল করা খামে ওই দুই বিদেশীর নাম ও তাদের পাসপোর্টের ফটোকপি তদন্ত কমিটির কাছে পেশ করবেন এবং চোরাই অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশকে ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এর পরিমাণ ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
এ দিকে সোলাইরি রিসোর্ট ও ক্যাসিনো কর্তৃপ ডিং নামে এক ব্যক্তির বাজেয়াপ্ত অ্যাকাউন্টের অর্থ ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। সেখানে প্রায় ২২ লাখ ৭০ হাজার ডলার রয়েছে। দু’টি মিলিয়ে ৬৯ লাখ ডলার ফেরত পেতে পারে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের অর্থ চুরি নিয়ে ফিলিপাইন সিনেটের ‘ব্লু-রিবন’ কমিটির পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৫ এপ্রিল। এর আগে ১৫ ও ১৭ মার্চ দুই দফা শুনানি হয়। তবে সিনেটের গত দু’টি শুনানিতে কিম অং অনুপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন। শুনানির আগে তার আইনজীবী ভিক্টর ফার্নান্দেজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তার মক্কেল সিঙ্গাপুর থেকে ফিলিপাইনে ফিরেছেন। সিনেটের শুনানিতে অংশ নিতে তিনি প্রস্তুত। সব কিছুর উত্তর দেবেন তিনি।
ব্লু রিবন কমিটি বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে তদন্ত করছেন। এর অংশ হিসেবে তদন্ত কমিটি বিভিন্ন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এরই অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে সিনেটর র‌্যালফ জি রেকটো এই শুনানি পরিচালনা ও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ফিলিপাইনের ডেইলি ইনকোয়ারার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ হতে এ তথ্য জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির এক প্রশ্নের জবাবে কিম অং বলেন, দুইজন বিদেশীর একজন প্রায়ই দেশটিতে যাতায়াত করেন এবং তিনি একজন জাঙ্কেট এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। তবে চুরি হওয়া অর্থ গ্রহণ ও উত্তোলন করার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতি করার কাজটি রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন বা আরসিবিসির শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোই করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন কিম অং।
তিনি কেবল একজন বিদেশী নাগরিককে ব্যাংক হিসাব খোলায় সহায়তার জন্য মিস দেগুইতোকে অনুরোধ করেছিলেন। এ ছাড়া চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে প্রায় ৬৩ মিলিয়ন ডলার সোলাইরি এবং মাইডাস ক্যাসিনোতে যায় বলে জানান কিম অং। বাকি ১৭ মিলিয়ন ডলার অর্থ রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান ফিলরেমে রয়ে যায়।
এ দিকে শুনানির আগে সাংবাদিকদের কিম অং বলেন, ‘দুই বিদেশী নাগরিক ফিলিপাইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার নিয়ে এসেছেন। এদের মধ্যে একজন ফিলিপাইনে আসা-যাওয়া করতেন এবং তিনি পেশায় ক্যাসিনো জাঙ্কেট। তদন্তকারীদের সাহায্য করতে আমি তাদের নাম ও পাসপোর্টের ফটোকপি সিল করা খামে কমিটির কাছে জমা দেবো।’
চীনা বংশোদ্ভূত কিম অংকে এই চুরির অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছিল। গতকাল শুনানিতে তিনি বলেন, ‘৮১ মিলিয়ন ডলার এ দেশে এনেছে দুই বিদেশী।’
কিম অংয়ের ভাষ্য মতে, দুই বিদেশীর একজন চীনা নাগরিক শু হুয়া গাও প্রায়ই ফিলিপাইনে যাওয়া-আসা করেন এবং গত আট বছর ধরে জুয়ার মক্কেল (জাঙ্কেট এজেন্ট) এনে দেন। এই মহলে পরিচিতি রয়েছে তার। ম্যাকাওয়ের ব্যবসায়ী ডিংকেও তিনিই তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
বিদেশী অপরজনের নাম ডিং ঝি জি। আর চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে সোলাইরি ক্যাসিনো রিসোর্টস হোটেলের হিসাবে থাকা ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার বাংলাদেশকে ফেরত দিতে চেয়েছে অর্থ লোপাটের ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী কিম অং।
শুনানিতে কিম অং বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এখানে উপস্থিত আছেন। তিনি একটি মাধ্যম হতে পারেন। তার মাধ্যমে আমরা অর্থ দিতে পারি।’
এ দিকে সিনেট সদস্য জুয়ান পন্স এনরিল জানিয়েছেন, কিম অং যে দুইজনের নাম জানিয়েছেন, তারা রিজাল ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ স্থানান্তর করেছিলেন।
কিম অং এর ভাষ্য, গাও প্রায় আট বছর ধরে ক্যাসিনোতে জাঙ্কেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। আর ডিং ম্যাকাওতে ব্যবসায় করতেন। সোলাইরির ক্যাসিনোতে বিশাল অঙ্কের অর্থ হেরে যাওয়ার পর গাও তার কাছ থেকে ৪৫ কোটি পেসো ঋণ নিয়েছিলেন। ওই সময় আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতো তার শাখায় একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তাকে। তখন তিনি দেগুইতোর কাছে গাওয়ের নাম উল্লেখ করেন।
২০১৫ সালের মে মাসে মিডাস হোটেলে দেগুইতোর সাথে দেখা করেন গাও ও কিম অং। গাও তখন আরসিবিসি ব্যাংকে ডলারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে চান বলে দেগুইতোকে জানান। তবে দেগুইতো জানান, তাদের ব্যাংকে কোম্পানি অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে পাঁচ ব্যক্তিকে প্রয়োজন।
জবাবে গাও জানান, তাহলে তার পে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাটা মুশকিল হয়ে পড়বে। দেগুইতো গাওকে আশ্বস্ত করেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন। এর ২-৩ দিন পর দেগুইতো তাকে ফোনে পাঁচটি ডলারের অ্যাকাউন্ট খুলতে দুই হাজার ৫০০ ডলার ব্যাংকে জমা দিতে বলেন।
কিম অং আরো বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি গাও তাকে জানান, ডিং ম্যাকাওতে তাদের ক্যাসিনো বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন এবং তিনি ম্যানিলায় অর্থ বিনিয়োগ করতে চান। পরের দিন সোলাইরি হোটেলে কিম অং, গাও ও ডিং দেখা করেন। এ সময় গাও এবং ডিং ব্যবসায়ী কিম অংকে বলেন, তিনি যেন দেগুইতোকে ফোন করে পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে খোঁজ নেন। ওই দিন বেলা ১টায় দেগুইতো ফোনে কিম অংকে জানান, ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে ৮১ মিলিয়ন ডলার জমা হয়েছে। কিম অং তখন দেগুইতোর কাছে জানতে চান, তিনি সোলাইরি হোটেলে অর্থগুলো নিয়ে আসতে পারবেন কি না। ওই দিনই সন্ধ্যা ৭টার দিকে সম্ভবত দেগুইতোর অনুরোধেই বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশনের মাইকেল বাউতিস্তা হোটেলে আট কোটি পেসো নিয়ে আসেন। পরে আরো দুই কোটি পেসো নিয়ে হোটেলে আসেন মায়া সান্তোস দেগুইতো।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার