বিস্তারিত

রহস্যময় গুহা

bangla news 24 ছবি : সংগ্রহকৃত

মোট ২৪টি গুহা। পাহাড়ের শক্ত পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছিল প্রায় দুই হাজার বছর আগে। চীনের ঝেজিয়াং রাজ্যের শিয়ান বেইচুন গ্রামে আবিষ্কৃত এ গুহা তৈরি করেছে বিরাট রহস্য।

ধারণা করা হচ্ছে, খ্রিষ্টপূর্ব ২১২ সালে কিন ডাইনেস্টির সময় পাহাড় কেটে এ গুহা তৈরি করা হয়। ১৯৯২ সালে এক গ্রামবাসী মাছ ধরতে গিয়ে এ গুহা দেখতে পান।
গড়ে ১০০০ বর্গমিটার আয়তনের প্রতিটি গুহা তৈরি করা হয়েছিল আধুনিক স্থাপত্যবিদ্যার সূত্র মেনেই। দেয়াল, পিলার, ছাদ- এগুলো দেখে আধুনিক স্থাপত্যবিদরা হাঁ হয়ে গেছেন। প্রায় দুই হাজার বছর ধরে পড়ে থাকা গুহাগুলোর এতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দিব্যি এখনো সেখানে খাওয়া-ঘুম সম্ভব।
প্রতিটি গুহায় রয়েছে আলো-বাতাস যাতায়াতের ব্যবস্থা। ৩০ মিটার উঁচু সিলিং, ৬০ সেন্টিমিটার পুরু দেয়ালের সব গুহার মোট আয়তন প্রায় ৩০০০০ বর্গমিটার।
মানবসৃষ্ট এ গুহা তৈরি করেছে রহস্য। প্রথম রহস্য- কী কাজের উদ্দেশ্যে এ গুহা নির্মাণ করা হয়েছিল? টুরিস্টদের জন্য ২৪টি থেকে মাত্র একটি গুহা উন্মুক্ত করা হয়েছে। ইতিহাসবিদেরা ধারণা করছেন, অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার জন্য এই পাহাড়ের বুকে গুহা কাটা হয়েছিল। ৬০ ডিগ্রি কৌণিক অবস্থানে তৈরিকৃত এ গুহার কোনোটির সাথে কোনোটির আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। প্রতিটি গুহার প্রবেশপথ আলাদা। এ ব্যবস্থা অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার কথাকেই আগে মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু এ যুক্তির সপক্ষে গুহার ভেতর কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বিন্দুমাত্রও না।
আরো কথা থেকে যায়। কঠিন পাথর কেটে ২৪টি গুহা নির্মাণ করতে প্রায় এক হাজার শ্রমিকের কমপক্ষে ছয় বছর লাগার কথা, যদি তারা রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই কাজ করেন। অপরাধীদের শাস্তি দিতে রাজারা এতটা পরিশ্রম এবং সময়ক্ষেপণ কেন করতে যাবেন? রাজার আদেশ মুখ থেকে বেরোনোর আগেই তো অপরাধীর মুণ্ডুপাত হয়ে যাওয়ার কথা।
গুহার মসৃণ দেয়াল দেখে মনে হয়- কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে এ শক্ত পাথরের পাহাড়। কিন্তু দুই হাজার বছর আগের প্রযুক্তি কী করে এটা সম্ভব করল?
দেয়ালের গায়ে টানা দাগ দেখেও তৈরি হয় সংশয়। স্থাপত্যবিদ্যার কোন সূত্র ধরে এ দাগ তৈরি করা হয়েছে, কোন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, তা বুঝে উঠতে বেগ পেতে হচ্ছে।
রহস্যময় গুহা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানামাত্রিক সংশয়। তার মধ্যে অ্যালিয়েন তত্ত্ব অন্যতম। অনেকেই মনে করেন, দুই হাজার বছর আগে মানুষের দ্বারা এ গুহা তৈরি সম্ভব নয়। এটি নিশ্চয়ই ভিনগ্রহের অ্যালিয়েনদের কাজ। অ্যালিয়েনরা এসেছিল পৃথিবীতে। তারাই এই অসাধ্য সাধন করে গেছে।
কিন্তু পাল্টা যুক্তিও আছে। মিসরের পিরামিডও অসাধ্য কাজ। এখনকার প্রযুক্তিতেই সেটা বিপুল শ্রমসাধ্য। সেটা যদি ওই যুগে মানুষ করে থাকতে পারে, তাহলে রহস্যময় গুহা কেন পারবে না?

সংবাদের ধরন : বিবিধ নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার