বিস্তারিত

মোদির হস্তক্ষেপে পিএফ-এ কর প্রত্যাহারের সম্ভাবনা

bdnews, bd news, bangla news, bangla newspaper , bangla news paper, bangla news 24, banglanews, bd news 24, bd news paper, all bangla news paper, bangladeshi newspaper, all bangla newspaper, all bangla newspapers, bangla news today,prothom-alo. ছবি : সংগ্রহকৃত

প্রভিডেন্ট ফান্ডে করের বোঝা নিয়ে তৈরি বিতর্ক মেটাতে হস্তক্ষেপ করলেন প্রদানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ কথা বললেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে বাজেট প্রস্তাবে প্রভিডেন্ট ফান্ডের মূল অর্থ বা সুদের একাংশের উপর কর বসানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে সম্ভবত বদল আসতে চলেছে৷ রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে তেমনটাই জল্পনা৷ প্রধানমন্ত্রী নাকি অর্থমন্ত্রীকে তেমনটাই বলেছেন৷ বলেছেন, গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য৷ তার জেরেই সম্ভবত স্বস্তি মিলতে পারে সাধারণ মানুষের৷

অরুণ জেটলিকে কী বলেছেন নরেন্দ্র মোদি? মোদি নাকি জেটলিকে বলেছেন, পথ খুঁজে বের করার জন্য৷ কোন পথ? প্রভিডেন্ট ফান্ডের উপর কর বসানো নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে সেই সংক্রান্ত সমস্যা ও জটিলতা থেকে কীভাবে বেরোনো যায়, গোটা বিষয়টি কীভাবে পর্যালোচনা করা যায়, তার পথ খোঁজার জন্য জেটলির সঙ্গে কথা বলেছেন মোদি৷ এমনও হতে পারে, গোটা বিষয়টি কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হল৷ প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে এমনটা খবর মিলেছে৷ যদিও প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক, কোনও সূত্রেই বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি৷ মঙ্গলবার সংসদে বিষয়টি উত্থাপিত হতে পারে৷ গত সোমবার সংসদে বাজেট পেশ হওয়ার পরেই গত মঙ্গলবার একটি বিশেষ বৈঠকে বসেছিলেন এনডিএ-র শীর্ষ স্থানীয়রা৷ সেখানেও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন বলে খবর৷ প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ কর্মীরাও একটি বিশেষ বৈঠক সারেন বলে জানা গিয়েছে৷

কেন্দ্র সম্ভবত দু’টি বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করতে চলেছে৷ প্রথমত, প্রভিডেন্ট ফান্ডের মূল জমা অর্থের সুদের উপরই শুধুমাত্র কর ধার্য হবে৷ দ্বিতীয়ত, প্রস্তাবটি পুরোপুরিই ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে৷ যদি অর্থমন্ত্রী প্রথম সম্ভাবনাটি বেছে নেন, সে ক্ষেত্রে কেন প্রভিডেন্ট ফান্ডের শুধুমাত্র সুদের উপর কর নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাঁকে সংসদে ব্যাখ্যা দিতে হবে৷ আর যদি তিনি দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি পছন্দ করেন, সে ক্ষেত্রে তাঁকে বাজেট প্রস্তাবে সংশোধনী আনতে হবে৷ তেমনটা হলে সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সময় সংশোধিত প্রস্তাবটি পেশ করা যেতে পারে৷

বিরোধীরা অবশ্য এবারের বাজেট প্রস্তাব পেশ হওয়া ইস্তক প্রভিডেন্ট ফান্ডের উপর কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানিয়েই আসছে৷ এবং সরকারের পক্ষ থেকে যা জানানো হয় তা হল, উচ্চবেতনভোগী কর্মচারীরাও ইপিএফ-এর সুবিধা পাচ্ছেন৷ তাঁদের সেই সুবিধা পাইয়ে না দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রক্ষিডেন্ট ফান্ডের অর্থের উপর কর বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে৷ কারণ বেসরকারি ক্ষেত্রের ১৫ হাজার বা তার কম মূল বেতনের কর্মীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ইপিএফ গঠন করা হয়৷ যে প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে সারা দেশে তিন কোটিরও বেশি গ্রাহক রয়েছেন৷ উল্টোদিকে ইপিএফ-এর ৩০ লক্ষের কিছু বেশি সংখ্যক উচ্চবেতনভোগী কর্মী ইপিএফ-এর গ্রাহক৷

বাজেট প্রস্তাব পেশ হওয়ার পর থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার উপর কর বসবে কি বসবে না সে বিষয়ে কোনও সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না৷ অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, বাজেট বিতর্কের সময় জবাবি ভাষণেই আলোচনা হবে, তখনই নিজের মতামত জানাবেন তিনি৷ যদিও তখনই অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর মিলেছিল, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মোদিই৷

বাজেট প্রস্তাব পেশ হওয়ার পর থেকেই বিরোধীরা প্রভিডেন্ট ফান্ডে কর চাপানো নিয়ে অতিমাত্রায় সরব৷ সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ এবং শঙ্কা তৈরি হচ্ছে৷ বাজেট প্রস্তাব পেশ হওয়ার চারদিনের মাথায় চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটের দিন ঘোষণাও করা হয়েছে৷ এই অবস্হায় প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে ভোটবাক্সে তার প্রভাব পড়তে পারে৷ তাই আপাতত নিরাপদে সোজা ব্যাটেই ধীরে ইনিংস খেলতে চাইছে কেন্দ্র সরকার, অভিযোগ বিরোধীদের৷

ভোটের তরণী পার হয়েই ফের এই বোঝা সাধারণ মানুষের উপর চাপতে পারে বলেও আশঙ্কা একাংশের৷ জেটলি বারে বারেই যে বিষয়টিতে জোর দিচ্ছেন তাতে তিনি বলেছেন, পেনশনের একাধিক প্রকল্পে মানুষের সঞ্চয়কে উৎসাহ দিতেই তাঁদের এই প্রস্তাব৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জয়ন্ত সিনহাও জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচেছ৷

এই মাসের শেষেই বৈঠকে বসছেন এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের অছি পরিষদের সদস্যরা৷ প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার উপর করের বোঝা চাপা নিয়ে উত্তাল হবে সেই বৈঠক৷ ইপিএফও অছি পরিষদের সদস্য ডি এল সচদেব জানিয়েছেন, ‘বাজেটে প্রস্তাবিত বিষয়টি প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেব৷ সমস্ত শ্রমিক সংগঠনও এর বিরোধিতা করছে৷’

সংবাদের ধরন : আন্তর্জাতিক নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার