বিস্তারিত

মৃত ব্যক্তির দেহে কত সময় সক্রিয় থাকে করোনা ভাইরাস!

ছবি : সংগ্রহকৃত

করোনা ভাইরাসে জীবাণু একজন মৃত ব্যক্তির দেহে কত সময় সক্রিয় থাকে তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক চলছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

ডা. মাহবুবা বলেন, ভাইরাসটা সাধারণত জীবিত মানুষ বা প্রাণীর মাধ্যে থাকে। মৃতদেহে ভাইরাস ২ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে কয়ঘন্টা থাকতে পারে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। যখন কোনো মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহের দরকার হয়, তখন আমরা ২ থেকে সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে থাকি। তবে, ওই ব্যক্তি যদি এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে তার নমুনা নাকের মধ্যে থাকে। ওই ভাইরাসটা মৃত হয়ে গেলেও তার নমুনা সংগ্রহ করে পিসিয়ার করে সেটা টেস্ট করা যায়। যদি সেখানে ভাইরাসটি থেকে থাকে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে যে জলীয় কণা বা ড্রপলেট বাতাসে বের হয়ে আসে তার মাধ্যমে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাত্র একবারের কাশি থেকেই বের হতে পারে এরকম ৩০০০ ড্রপলেট। ড্রপলেটের এই কণা গিয়ে পড়তে পারে আরেকজনের গায়ে, কাপড়ে এবং আশপাশের জিনিসের উপর। তবে কিছু ক্ষুদ্র কণা থেকে যেতে পারে বাতাসেও।

দেখা গেছে, এই ভাইরাস মল-মূত্রের মধ্যে আরও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে। টয়লেট থেকে ফিরে ভালো করে হাত না ধুলে তার হাতের স্পর্শের সাহায্যে আরও অনেক কিছুতেই এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন বলছে, ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম কোনো বস্তু স্পর্শ করার পর হাত দিয়ে যদি মুখ স্পর্শ করা হয় তাহলে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। তবে এটিই এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান উপায় নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য কর্তৃপক্ষও বলছে যে, বারবার হাত ধুয়ে এবং একই সঙ্গে যে সব জিনিস ধরা হচ্ছে সেগুলো বারবার জীবাণুমুক্ত করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটা এখনও পরিষ্কার নয় যে, করোনাভাইরাসের জন্য দায়ী কোভিড-১৯ মানবদেহের বাইরে কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, আরও যে সব করোনাভাইরাস আছে, যেমন সার্স ও মার্স, সেগুলো লোহা, কাঁচ এবং প্লাস্টিকের গায়ে ৯ (নয়) দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো ভাইরাস ঠাণ্ডা জায়গায় ২৮ দিনও বেঁচে থাকতে পারে।

তবে গবেষণায় দেখা গেছে কোভ-২ ভাইরাস কার্ডবোর্ডের মতো শক্ত জিনিসের ওপর ২৪ ঘণ্টা আর প্লাস্টিকের জিনিসের গায়ে দুই থেকে তিন দিনও বেঁচে থাকতে পারে।

গবেষণা বলছে, ভাইরাসটি দরজার হাতল, প্লাস্টিক ও লেমিনেটেড ওয়ার্কটপ ও কঠিন বস্তুর ওপর দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। আর কপারের কোনো জিনিসে পড়লে এর মৃত্যু হতে চার ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসকে এক মিনিটেই নিষ্ক্রিয় করে ফেলা যেতে পারে। ৬২-৭১% এলকোহল মিশ্রিত তরল পদার্থ দিয়ে কোনো জিনিসকে করোনামুক্ত করা যায়। ০.৫ শতাংশ হাইড্রোজেন প্রিঅক্সাইড এবং ০.১% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট মেশানো ব্লিচ দিয়েও করোনাভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব।

উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণেও অন্যান্য করোনাভাইরাসের দ্রুত মৃত্যু হতে পারে। দেখা গেছে, সার্সের জন্য দায়ী করোনাভাইরাস ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে না।

তবে কাপড়ের মতো নরম জিনিসের গায়ে এটি এত লম্বা সময় বেঁচে থাকতে পারে না। ফলে আপনি যে কাপড়টি পরেছেন এবং তাতে যদি ওই ভাইরাসটি থাকে, জামাটি একদিন কিংবা দু’দিন না পরলে সেখানে ভাইরাসটি জীবিত থাকার আর সম্ভাবনা নেই। মনে রাখতে হবে, কোভিড-১৯ ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম জিনিসে শুধু স্পর্শ করলেই আপনি আক্রান্ত হবেন না।

শুধু স্পর্শ করার পর আপনি যদি হাত দিয়ে মুখ, নাক অথবা চোখ স্পর্শ করেন তাহলেই এই ভাইরাসটি আপনার শরীরে ঢুকে পড়বে। তাই এই ভাইরাসটি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ একটি করণীয় হচ্ছে হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ না করা।

সংবাদের ধরন : র্শীষ সংবাদ নিউজ : নিউজ ডেস্ক