বিস্তারিত

মিয়ানমারের ঘটনায় জাতিসংঘের মহাসচিব নিন্দা প্রকাশ করলেন

ছবি : সংগ্রহকৃত

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমারে সামরিক জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে ‘প্রাণঘাতী সহিংসতার’ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। এক টুইটে আজ রোববার তিনি এই বার্তা দেন।

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে গতকাল শনিবার পুলিশের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর জাতিসংঘ মহাসচিব আজ নিন্দা প্রকাশ করলেন। মান্দালয় শহরে গতকাল সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় অন্তত দুজন নিহত হয় বলে জানিয়েছেন জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ করা কর্মীরা।

আন্তোনিও গুতেরেস টুইটে বলেন, ‘আমি মিয়ানমারে প্রাণঘাতী সহিংসতার পথ অবলম্বন করার নিন্দা জানাই। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরতদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, ভয়-ভীতি দেখানো এবং নিপীড়ন করা মেনে নেওয়া যায় না।’

‘সবারই শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। আমি সব পক্ষকে নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি সম্মান দেখানোর এবং বেসামরিক শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি’, যোগ করেন গুতেরেস।

মিয়ানমারে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আয়োজিত বিক্ষোভে প্রায় এক হাজার মানুষ যোগ দেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে আহত এক তরুণীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভের আয়োজন করেন তাঁরা। এই বিক্ষোভে অন্তত দুজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন সেখানকার জরুরি সেবাদানে নিয়োজিত কর্মীরা। মান্দালয় ভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধার দলের প্রধান জানিয়েছেন, একটি শিপইয়ার্ডের কাছে এই সহিংসতায় প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন।

এর আগে গত শুক্রবার গুলিতে প্রাণ হারানো মিয়া থোয়েট থোয়েট খিয়াং-এর স্মরণে প্রতিবাদকারীরা ফুল ও ব্যানার হাতে মান্দালয় ও ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় নামেন। নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিবাদকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, জল কামান ও রাবার বুলেট ছোড়ে। সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। এখন পর্যন্ত ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক দল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল সবশেষ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের সামরিক এবং সব নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। দেশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামীকালসোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন আলোচনায় বসবে বলেও এক টুইটে উল্লেখ করেন।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর অবরোধ আরোপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে আসছেন সু চির সমর্থকেরা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে জেনারেলদের ওপর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে নেয়। ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির নেত্রী অং সান সু চি ও অন্য শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে সামরিক বাহিনী। এর প্রতিবাদে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।

সংবাদের ধরন : আন্তর্জাতিক নিউজ : নিউজ ডেস্ক