বিস্তারিত

বিটিআরসির পাওনা মেটাতে ২ সপ্তাহ সময় পেল গ্রামীণফোন

ছবি : সংগ্রহকৃত

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দাবি করা প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার মধ্যে এখন কত টাকা দিতে পারবে, তা জানাতে আরও দুই সপ্তাহ সময় নিয়েছে বেসরকারি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন। গ্রামীণফোনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী ১৪ নভেম্বর এ মামলার আদেশের দিন ধার্য্য করেছেন আদালত।

শুনানিকালে গ্রামীণফোনের আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, এ দেশে ব্যবসা করাটা সহজ। যখন টাকা-পয়সার ব্যাপার আসে তখন আদালতে এসে একটা আবেদন করে স্থগিতাদেশ নিয়ে টাকা দেয়া হয় না। গড়িমসি করা হয়। মামলাগুলো করাই হয় যাতে টাকা দিতে না হয়। এ সব মামলার কারণে অর্থঋণ আদালতগুলোতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা আটকে আছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, ব্যবসা করবেন টাকা দেবেন না- তা হয় না।

সেই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এ মামলার শুনানিতে গ্রামীণফোনের কৌঁসুলি এএম আমিনউদ্দিন বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে একশ’ কোটি টাকা দেয়া নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই প্রেক্ষিতে ওই টাকা দিব।

আদালত বলেন, সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পাবে, আর আপনি বলছেন একশ’ কোটি। ওইখানে কমপ্রোমাইজ করবেন আর আদালতে এসে মামলা করবেন সেটা হতে পারে না। আমিনউদ্দিন বলেন, তারা সিদ্ধান্ত না মানায় আদালতে এসেছি। টাকা দেব না এ কথা তো কখনও বলিনি।

আরেক আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, বিটিআরসির দাবিকৃত টাকার ভিত্তি আছে কিনা- সেটা আদালতের দেখা দরকার। একটা বহুজাতিক কোম্পানি এ দেশে ব্যবসা করতে এসেছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। এর আগে জিপি ২১শ’ কোটি টাকা দিয়েছে।

আদালতে আজ গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তাদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম ও আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

এর আগে দাবিকৃত সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা প্রদানের জন্য ২ এপ্রিল গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয় বিটিআরসি। ওই চিঠির বিরুদ্ধে ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করে গ্রামীণফোন। এতে টাকা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

গত ২৮ আগস্ট আদালত মামলা খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে গ্রামীণফোন। ওই আবেদন গ্রহণ করে বিটিআরসির চিঠি স্থগিত করে দেয় হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় বিটিআরসি। গত ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ এক আদেশে বলেন, গ্রামীণফোন এই মুহূর্তে কত টাকা বিটিআরসিকে দিতে পারবে তা জানাতে হবে।

 

সংবাদের ধরন : র্শীষ সংবাদ নিউজ : নিউজ ডেস্ক