বিস্তারিত

বাঁকানো কনুই-কথা

bdnews ছবি : সংগ্রহকৃত

bd news,bdnews,bdnews24,bdnews24 bangla,bd news 24,bangla news,bangla,bangla news paper,all bangla newspaper,bangladesh newspapers,all bangla newspaper,bangla news paper,bangladesh newspapers,all bangla newspapers,bd news 24,bangla news today,bd news paper,all bangla news paper,bangladeshi newspaper,all bangla newspaper,all bangla newspapers,bdnews,bangla news,bangla newspaper,bangla news paper,bangla news 24,banglanews,bd news 24,bangla news today,bd news paper,all bangla news paper,bangladeshi newspaper,all bangla newspaper,all bangla newspapers

একটি চনমনে সুখবরে গতকাল সকালটা ঝলমলিয়ে উঠেছিল। পেসার তাসকিন আহমেদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে আইসিসি। যেন একটি মস্ত বোঝা নেমে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঘাড় থেকে। এটুকু স্থির নিশ্চিত হওয়া গেল যে, প্রতিপক্ষের ত্রাস-জাগানিয়া দুষ্প্রাপ্য চরিত্রের এই দ্রুতগতির তরুণ অর্জুন হারিয়ে যাবেন না।
কিন্তু না, একটু বেলা গড়াতেই জানা গেল নিষেধাজ্ঞাটা উঠে তো যায়নি বরং বহাল রাখা হয়েছে। আইসিসি আমাদের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বক্তব্য শুনানিতে শুনেছেন এবং শেষ বিবেচনায় নিজেদের সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছেন। অর্থাৎ তাসকিনের বোলিং ত্রুটিযুক্ত। দিনের ঝলমলে ভাবটা শেষের খবরটায় ম্রিয়মাণতার দিকে পা বাড়াল। তবে বিসিবির নৈতিক বিজয় শুধু এটুকুই যে, তাসকিন একেবারে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে না। নিজস্ব শোধনাগারে পরিশুদ্ধ হয়ে তিনি আবার নিজেকে পরীক্ষার জন্য উপস্থিত করতে পারবেন। সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে খেলায় ফিরতে পারবেন। আইসিসি তাঁকে সে সুযোগ দেবে।
আইসিসির খড়্গ বিগত অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের দিন আমাদের দলটাকে ভীষণই এলোমেলো করে দিয়েছিল। সেই ধারালো কোপে ধরাশায়ী বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির ব্যাপারে আমরা কোনো পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছি কি না জানি না। এ ক্ষেত্রে আমাদের নৈতিক প্রতিবাদের ভাষাটাও দুর্বল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সানি-সংক্রান্ত রায়টায় আমাদের তেমন কোনো আপত্তি নেই। অর্থাৎ আমরা হালকাভাবে হলেও মানছি উনি দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে বল ছুড়েছিলেন। তাসকিনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে সানির ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তাভাবনা পরে যা হোক একটা কিছু করা যাবে। নিকট অতীতে সানির মতো আরেকজনকে আমরা হারিয়েছি একান্ত প্রয়োজনীয় মুহূর্তে। বিগত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আইসিসি একই অপরাধে অফ স্পিনার সঞ্জিত সাহা দীপকে ছিটকে দেয়। আমাদের আক্রমণ তাতে ধার হারায় অনেকটাই।
সেই তরুণ নিশ্চয়ই এখন নিজেকে শোধরানোর পর্যায়ে আছেন। বলছিলাম কি, এই যে কনুই বাঁকিয়ে বল করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের ছিদ্রান্বেষী মনোভাব আমাদের বারবার বিব্রত করছে, সেটা কি একেবারেই অযৌক্তিক? নাকি কোনো একটি পূর্বঘোষিত, সর্বজনবিদিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কাজটি করা হচ্ছে? এ রকম না হলে তো বিষয়টা নির্যাতনের শামিল। ইয়ান চ্যাপেল বা ওয়াসিম আকরাম যতই বলুন তাসকিন-সানির নিরিখে বাংলাদেশের প্রতি অবিচার করা হয়েছে, আইসিসি তো বলবে তারা পূর্বঘোষিত বিধি মোতাবেক আম্পায়ারের রিপোর্টের ভিত্তিতে, পরীক্ষা অন্তে ব্যবস্থা নিয়েছে। এ রকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন নয়। অভিযোগ হলে পরীক্ষা হবে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবস্থার ভালো-মন্দের ওপর পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে। এটা নতুন কিছু নয়। এই চলমান প্রক্রিয়ার পেছনে তৃতীয় পক্ষের কলকাঠি নাড়ার সুযোগ আছে কি না সেটা সপ্রমাণ আবিষ্কারসাপেক্ষ। এখন তাসকিনকে শোধরানোর কাজে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আসলে একটা ছোট্ট কথা বলার জন্য একটু দীর্ঘ ভূমিকা ফাঁদলাম। কথাটা হচ্ছে ছোড়াছুড়ি নিয়ে যে বারবার আমরা বা আমাদের মতো অন্যরা ঝামেলায় জড়াচ্ছি তা কোন প্রয়োজনে। নিশ্চয়ই ক্রিকেটকে সর্বাঙ্গীণ সুন্দর করার জন্যই সর্বোচ্চ বিশ্ব সংস্থার এই ব্যবস্থা গ্রহণ। এসব ধরাধরি না করলে কী আসে যায়। কনুই ইচ্ছামতো বাঁকিয়ে বল করার সুযোগ থাকলে ডজন ডজন শতাধিক মাইল গতির দ্রুত বোলার পাওয়া যেত। স্পিনাররা তক্তা পিচেও লাটিমের মতো বল ঘোরাতেন। কিন্তু খেলাটার অবস্থা তাতে কী দাঁড়াত? তখন লোকে শুধু বোলিং দেখতে মাঠে যেত। মায়েরা ছোট বাচ্চাদের উৎসাহ নিয়ে মাঠে পাঠাতেন না। খেলাটির সৌন্দর্য রক্ষার্থেই কনুই বাঁকিয়ে বল করার ওপর ওই ১৫ ডিগ্রির নিয়ন্ত্রণ। সেটাকে তো মানতেই হবে। তা না হলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে তৈরি বোলার আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে ধরা খাবেন আর সে খেই সামলাতে হবে দলকে, দলের আন্তরিক সমর্থকদের আপ্লুত হৃদয়কে।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের খোঁজখবর যাঁরা রাখেন তাঁরা জানেন ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা এ ক্ষেত্রে কতটা উদাসীন। বল দৃষ্টিকটুভাবে বছরের পর বছর ছুড়ে যাচ্ছে বোলার, অথচ আম্পায়াররা নো ডাকছেন না। তাঁরা বলেন হাতের দোষে নো ডাকার নিষেধ আছে, তাঁরা শুধু রিপোর্ট করার অধিকার রাখেন। রিপোর্ট করার ক্ষেত্রেও তাঁদের কর্তা ভজন নীতি অনুসারে কাজ করতে হয়। তারপর রিপোর্টের কোনো কার্যকারিতা না থাকায় একসময় রিপোর্ট করার বিষয়ে তাঁদের অনীহা জন্মে যায়। একসময় বোলার রিভিউ কমিটি নামে একটি কমিটি ছিল। তাঁরা বিষয়টি দেখতেন। চাকারদের শোধরাতেন। নিষেধাজ্ঞা জারি করতেন। কিছু কাজ হতো। ঘরোয়া লিগের আগে দলগুলোকে জানানো হতো সন্দেহভাজন বোলারদের তালিকা। সেসব বোলারের হাতে বল তুলে দিলে আম্পায়ার শ্যেনদৃষ্টিতে তাঁদের দেখতেন। প্রয়োজনে বল করা বন্ধ করে দিতেন।
সেসব দিন বাঘে খেয়ে ফেলেছে। ফলে সঞ্জিত সাহা, আরাফাত সানিরা ধরা পড়েন। যাঁরা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন এ পর্যন্ত, তাঁদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাঁদের সম্পর্কে স্থানীয় আম্পায়ার বা প্রশিক্ষকেরা আগে সন্দেহ পোষণ করেননি বা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেননি। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তি বোলারেরও দায় আছে। প্রশ্নবিদ্ধ বোলারের শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়াটিও জটিল এবং পরিশ্রমনিষ্ঠ সাধনার দাবিদার। প্রশিক্ষকেরা কৌশল নির্ণয় করে দেন কিন্তু সব সময় আগের কার্যকারিতা ফিরে আসে না। শুদ্ধভাবে বল করতে গিয়ে আগের মহিমায় না ফিরতে পারলে অসচেতনভাবেই পেশি তার পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যায়, তখন আগের মান এবং প্রশ্ন উভয়েই ফিরে আসে। সুতরাং যত কচি অবস্থায় পেশিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায় ততই মঙ্গল।
ঘরোয়া ক্রিকেটের একেবারে তৃণমূল থেকে এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারি না রাখলে ভবিষ্যৎ আমাদের প্রাসঙ্গিক ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। আমাদের বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণব্যবস্থায় কারিগরি সহায়তার আরও আধুনিকায়ন এ ক্ষেত্রে জরুরি। সঠিক ভঙ্গিতে বল করা বিষয়টি জৈব যান্ত্রিকতার সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূল পর্যায়ের প্রশিক্ষকদের এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল রাখাটাও জরুরি। অত্যাবশ্যকীয় প্রতি শোধক হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ারদের বোলার দৃষ্টিকটুভাবে বল ছুড়লে ‘নো’ ডাকার অধিকার দিন। নিদেনপক্ষে তাঁদের রিপোর্টগুলোকে খুব দ্রুত বিবেচনায় এনে সংশ্লিষ্ট বোলারটিকে দেখুন।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : বিডি নিউজ