বিস্তারিত

বসন্তের সাজে সাজছে তরুণী

ছবি : সংগ্রহকৃত

বসন্ত  এসেছে। কোকিলের কুহু কুহু ডাকে মুখরিত চারদিক। বসন্তের প্রথম আর ভালোবাসার দিনটিকে তরুণ–তরুণীরাও তো মুখরিত করে রাখেন। সকাল থেকে জুটি বেঁধে বা দলবল নিয়ে চলতে থাকে ঘোরাঘুরি৷
এই সময়ে একই সঙ্গে অনেক উৎসব চলছে। বইমেলা, বিভিন্ন শিল্প প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র উৎসব, মসলিন উৎসব আরও কত–কী৷ অনেকে বেড়াতে যান সেখানেও। মাথায় ফুলের মুকুট পরা তরুণীরা দলে দলে বের হন এদিন। চলে আড্ডা, খাওয়াদাওয়া, মজা আর হইহুল্লোড়। এই সময়ের আবহাওয়াটা অদ্ভুত। কখনো হালকা শীত, রোদ উঠলেই আবার উষ্ণ। তবে শীত বা গরম, কোনোটাই বেশি থাকে না বলে আরাম আরাম লাগে। এমন সময়ে সুতি বা জর্জেট পোশাকই সারা দিন পরে বেড়ানোর জন্য উপযোগী। ফ্যাশন ডিজাইনার ওমর ফারুক বলেন, তাঁরা বিশেষ কোনো উৎসব ধরে যেমন কাজ করেন, তেমনি বিভিন্ন বার্তাও তাঁদের পোশাকের নকশার মাধ্যমে দেওয়ার চেষ্টা থাকে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মোটিফগুলোকে কেন্দ্র করে পোশাকে তাই নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।

ডিজাইনার ওমর ফারুকের মতে, এ দেশে ফাল্গুনের প্রথম দিনটিই ভালোবাসার দিন, আর এই উৎসবও সর্বজনীন। ভালোবাসা দিবস নিয়ে যেমন তরুণমহলেই বেশি মাতামাতি দেখা যায়, পয়লা ফাল্গুনের দিনটি কিন্তু তেমন নয়। মনে যদি বসন্ত থাকে, তবে হোক তিনি আশি বছরের বৃদ্ধ, তাঁর বসন্তও হয়ে ওঠে নানা রঙে রঙিন। ভালোবাসা দিবসে অনেক জুটিকে দেখা যায় রেস্তোরাঁয় নতুন স্বাদের খাবার খেতে৷ অনেক রোস্তোরাঁতে তাই ভালোবাসা দিবসে বিশেষ খাবারের আয়োজন থাকে রাতে বা দুপুরের মেন্যুতে৷ এক দিনের পরিকল্পনা করে অনেকে বেরিয়ে পড়েন কাছাকাছি বেড়িয়ে আসতে৷ এ ছাড়া শহরের মধ্যেই হয়তো বিশেষ কোনো প্রদর্শনী বা মেলা ঘুরে সময় কাটাতে পারেন৷ শহরের আশপাশে বেড়াতে গেলে নিজস্ব গাড়ি সঙ্গে নিলেও শহরের মধ্যে বেড়াতে পারেন রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা হেঁটে৷ পথের ধারের খাবার, চা, পানিপুরি, ভেলপুরি, ফুচকা বা চটপটি চেখে দেখার সুযোগও হাতছাড়া করেন না অনেকে৷
বন্ধু বা ভাইবোন মিলে বসন্তে দলবেঁধে ঘুরতে দেখা যায়। অনেকেই এদিন মিলিয়ে পোশাক পরেন। তরুণীরা শাড়ি পরতে বেশি ভালোবাসেন। শাড়ি পরে সারা দিন বেড়াতে স্বচ্ছন্দ্যবোধ না করলে বেছে নিতে পারেন সুতি বা লিনেনের টপ, কুর্তি বা সালোয়ার–কামিজ।
অনেক প্রতিষ্ঠান এবার ফিউশনধর্মী কাজ করেছে। নেটের কিছু লম্বা জ্যাকেটও দেখা গেল। এটি পোশাকের ওপরে পরার জন্য। আর বসন্তের পোশাক সংগ্রহে ফ্লুরোসেন্ট রংগুলো নিয়েই বেশি কাজ হয়েছে এবার। হলুদ তো আছেই, তার সঙ্গে রয়েছে কমলা ও সবুজের মতো রং। এই রঙের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে ম্যাজেন্টা ও লালের।বর্তমানে লালের কদর বেশি।
আর ফাল্গুনের সাজে ফুল তো অবশ্যই থাকা চাই। চুলটা আধা খোলা, আধা বাঁধা ঢঙে আটকে নিয়ে তাতে ফুল গুঁজে দিতে পারেন। তা না হলে ফুলের মুকুট বা টায়রাও আজকাল পরছেন অনেকে।

সংবাদের ধরন : জীবন যাপন নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার