বিস্তারিত

বরিশালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও জরিমানা

ছবি : সংগ্রহকৃত

বরিশাল জেলা প্রশাসনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজও বরিশাল নগরীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত আছে। আজ ১৮ এপ্রিল শনিবার সকাল থেকে বরিশাল মহানগরীর চৌমাথা মোড়, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর বাজার, বাংলা বাজার, আমতলার মোড়, সাগরদী, ধান গবেষণা রোড, রুপাতলী, পুলিশ লাইন, নবগ্রাম, চাঁদমারি, ভাটারখাল, বাজার রোড, লাইন রোড, ভাটিখানা এলাকায় জেলা প্রশাসন বরিশাল এর পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জনসমাগম করে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বরিশাল জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ৯ টি দোকান কে মোট ৩০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা অাদায় করা হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, অজিয়র রহমানের নির্দেশনায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল মোঃ জিয়াউর রহমান এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলাম।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে গণসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ সময় বিভিন্ন টি-স্টল, মুদি দোকান ও এলাকার মোড়ে মোড়ে যেখানেই জনসমাগম দেখা গেছে তা ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং নিরাপদ দূরত্বে চলার নির্দেশনা, মাক্স পরার নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে মাক্স বিতরণ করা হয়।

এসময় সবাইকে যৌক্তিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসতে নিষেধ করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে জরুরি ঔষধ ব্যতীত সকল প্রকার দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এসময় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনায় করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান।

অভিযান পরিচালনাকালে নগরীর কাশিপুর বাজারে বেশ কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় দোকান হার্ডওয়্যার ও ইলেকট্রনিকস এর দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে পণ্য বিক্রয় করা এবং সরকারি আদেশ অমান্য করার অপরাধে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা মোতাবেক জেছিয়া ইলেকট্রনিকস কে ১০ হাজার, ইসরাত ফার্নিচার্স কে ৫ হাজার এবং মুদিহ ইলেকট্রনিকস কে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ডেকে বাজার মনিটরিং-এ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

এছাড়াও নগরীর সাগরদী এলাকায় মদিনা জুয়েলার্স নামক একটি জুয়েলারি দোকানকে সরকারি আদেশ অমান্য করে খোলা রাখার জন্য একই আইনে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

বেশ কয়েকটি স্পটে টিসিবির পণ্য বিক্রয়ে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সহযোগিতা করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম। অপরদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় লাইন রোড এলাকায় ৪ টি অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করে পণ্য বিক্রয় করার অপরাধে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন র‌্যাব-৮ এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম।

অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় বলেন, জনগণকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা এবং করোনা ভাইরাসের বিস্তার এবং এটিকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রোধকল্পে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, অজিয়র রহমান সদা সচেষ্ট এবং তাঁর নির্দেশনায় নিয়মিত এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : Md Shahzada Hira