বিস্তারিত

বরিশালে আজ থেকে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

ছবি : সংগ্রহকৃত

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃতের মিছিল, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার গত কয়েকদিন ধরে ছুটি ঘোষণা করেছে, নিয়েছে নানা কর্মসূচি। জনসমাগম পরিহার করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ ঘরে অবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

বরিশালে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নিরলস ভাবে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। জনসমাগম বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ঔষধের দোকান ব্যতীত সকল দোকান বন্ধ রাখা, প্রয়োজন ব্যতীত বাসা থেকে বের না হওয়াসহ বাজার মনিটরিং এর জন্য প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন।

গত কয়েকদিনের তুলনায় বরিশালে আজ থেকে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আজ ৬ এপ্রিল সোমরার সারাদিন বরিশাল নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বৃন্দ।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এস, এম, অজিয়র রহমান বলেন, বরিশালবাসীকে নিরাপদে রাখতে কঠোর হতে বাধ্য হলাম, সরকারী নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিভিন্ন এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে সেনাবাহীনি, পুলিশ এবং র‌্যাব-৮ এর সদস্যদের।

আজ সকালে বরিশাল মহানগরীর বাংলাবাজার এলাকায় অভিযানকালে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ কাজে বাধা প্রদান করায় অলিউর রহমান চিশতী (৪৫) নামক এক ব্যক্তিকে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান। এসময় তিনি সবাইকে যৌক্তিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসতে নিষেধ করা হয় এবং এ আদেশ অমান্যাকরীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে সকালে অপর একটি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা কালে নগরীর আমতলার মোড় এলাকায় ফিরোজ স্টোরে জনসমাগম করে চা বিক্রয় করার অপরাধে সংক্রামক রোগ (নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর ২৪ ধারায় মোঃ ফিরোজ কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে দোকান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি সাগরদী ব্রাঞ্চ রোড এলাকায় একই আইনে জনসমাগম করে চা বিক্রয় করার অপরাধে মোঃ আয়োব আলী কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল মোঃ নাজমুল হুদা।

এদিকে আজ বিকেলে নগরীর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন ত্রিশ গোডাউন রোডে বিনা প্রয়োজনে রাস্তায় জড়ো হয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে জনসমাগম করার অপরাধে প্রাথমিক ভাবে সতর্ক করে বাসায় যেতে বলা হলে মোঃ আজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি মোবাইল কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তায় অবস্থান করে মোবাইল কোর্টকে অসহযোগিতা করায় দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারা মোতাবেক তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডর প্রদান করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে একই মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী ভ্রমণ করার অপরাধে মোটরসাইকেলের চালক কে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা মোতাবেক ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়। বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান এর নেতৃত্বে অভিযান চলাকালে জনসমাগম সৃষ্টি করা ও বিনা প্রয়োজনে ঘরে বাইরে ঘুরাঘুরি করে সংক্রামক রোগ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করায় ২ জন ব্যক্তিকে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা মোতাবেক ২০০ টাকা করে মোট ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের খান বাড়ির নিবাসী কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী (৫০) এর করোনা ভাইরাস এর লক্ষণ নিয়ে আজ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করলে জেলা প্রশাসন বরিশাল এর পক্ষ থেকে তার বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়।

অন্য একটি মোবাইল কোর্ট টিম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নেতৃত্ব প্রদান করেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা। অভিযান চলাকালে নতুল্লাবাদ এলাকায় সরকারি আদেশ অমান্য করায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারা অনুযায়ী এক ব্যক্তিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে দিনভর নগরীর বিভিন্ন সড়কে চেকপোষ্ট বসিয়ে যারা বিনা কারনে বাসা থেকে বের হয়েছেন আটকে দেয়া হচ্ছে তাদের যানবাহন। বাসা থেকে বের না হওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা।

জেলা প্রশাসক এস, এম, অজিয়র রহমান গত কয়েকদিন ধরে বরিশাল জেলা ব্যাপী কর্মহীন দু:স্থ ও অসহায় খেটে খাওয়া পরিবারের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন এবং বরিশালের সড়ক সহ বিভিন্ন স্থানে জীবানুনাশক পানি স্প্রে করছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান এবং ঔষধ তথা মেডিকেল সার্ভিস সমূহ ব্যতিত সকল দোকান বন্ধ থাকবে পাশাপাশি সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে খাবারের দোকান, কাঁচা বাজারের দোকান, নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি দোকান বন্ধ করতে হবে। নইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানান জেলা প্রশাসক এস, এম, অজিয়র রহমান।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : Md Shahzada Hira