বিস্তারিত

বন্ধ থাকা “এসি” ব্যবহারে নানা দুর্ঘটনা

ছবি : সংগ্রহকৃত

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অফিস আদালত খোলার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আবারও সচল হবে বন্ধ থাকা এসি ব্যবহার। বন্ধ থাকা এসি ব্যবহারে অধিক সতর্ক না হলে ঘটতে পারে বিস্ফোরণসহ নানা দুর্ঘটনা। এতে ঘটছে প্রাণহানিও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিএফএক্স রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আর নিম্নমানের হওয়ায় সাধারণত এসি’র বিস্ফোরণ ঘটে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এসির ভেতরের পাইপের কোথাও ব্লকেজ হলেও এসির ভেতরে উচ্চ চাপ তৈরি হয়ে কম্প্রেসার ব্লাস্ট হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক বলেন, এসিতে যখন ময়লা বেড়ে যায়, তখন এসিতে অনেক লোড টানে। আর যখন এই লোড টানে তখন যদি সামান্য লুজ কানেকশন থাকে বা নিম্ন মানের সরঞ্জামও যদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেখান থেকে হয় শর্টসার্কিট, আর তা থেকে অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে শুধু রাজধানীতে এসি বিস্ফোরণে ৪ নিহত হয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন ২২ জন। সবশেষ রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে এসি বিস্ফোরণ বলেই ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

কেন ঘটছে এসি দুর্ঘটনা?
অনেকে রুমের লোড অনুপাতে এসি ব্যবহার করেন না। ফলে এসিটি অনেকক্ষণ ধরে চলতে হয়, সেই সঙ্গে অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। নিম্নমানের এসি কিনলে সেগুলোর ভেতরে ফ্যান, তারের, বিদ্যুতের ব্যবস্থাগুলো ঠিক থাকে না। ফলে সেখানেও কারিগরি ক্রুটি দেখা যায়, যা অনেক সময় আগুনের সূত্রপাত করতে পারে।

এসি দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। ফলে কারিগরি ক্রুটির কারণে এসিতে আগুন ধরে যেতে পারে বা এসির গ্যাসে আগুন লেগে সেটি ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অনেক সময় উইন্ডো এসির সামনে জানালা বা দরজার পর্দা চলে এলে বাতাস চলাচলে বাধাগ্রস্ত হয়। সেটিও এসিকে গরম করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসি দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি বিষয়ের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত।

*পেশাদারদের মাধ্যমে নিয়মিত সার্ভিসিং করানো
*রুমের আকার অনুযায়ী সঠিক মাত্রার এসি নির্ধারণ
*নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের এসি কেনা
*দীর্ঘসময় একটানা এসি না চালিয়ে মাঝে মাঝে বিরতি দেয়া
*বৈদ্যুতিক সংযোগ, সকেট, ফিল্টার নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা।
*হাই ভোল্টেজ এড়াতে বাড়িতে সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা।
*বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় এসির ব্যবহার বন্ধ রাখা। এছাড়া বাড়ির ছাড়ে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
*একনাগাড়ে আট ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া আউটডোর মেশিন এমন স্থানে বসাতে হবে, যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।

প্রতিযোগিতার বাজারের কারণে অনেকে চীন থেকে অত্যন্ত কম মূল্যে কিন্তু নিম্নমানের জিনিস দিয়ে তৈরি এসি এনে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি করছে। এমনকি অনেকে এসব এসির গায়ে নামী ব্রান্ডের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি করছে। এসব এসির গুণগত মান খারাপ হওয়ায় সহজেই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : নিউজ ডেস্ক