বিস্তারিত

প্রতারণার নতুন কৌশল!

banglanews ছবি : সংগ্রহকৃত

আগে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন লোভনীয় পুরস্কারসহ লটারির পাওয়ার কথা বলে এর ব্যবহারকারীদের (মোবাইল ফোন গ্রাহক) সাথে প্রতারণা করলেও এখন নতুন কৌশল শুরু করেছে প্রতারকচক্র। প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে টাকা লেনদেনের ‘বিকাশ’ মাধ্যম। ‘ভুল করে বিকাশে টাকা চলে গেছে’-এমন কথা বলে সেই অঙ্কের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় গ্রাহকের মোবাইলে ফোনে কল দিয়ে অনেক আকুতি ও মিনতি জানায় প্রতারক চক্রটি। তাদের কথার বিশ্বস্ততার জন্য প্রতারকচক্রের মোবাইল ফোন থেকে বিকাশের এজেন্টের মতো করে টাকা পাঠানোর মেসেজ দিচ্ছে তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এমনই একটি প্রতারকচক্র ফোন দিয়ে একজন বিকাশ গ্রাহকের সাথে প্রতারণার চেষ্টা চালায়। ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুচিয়াবাড়ি গ্রামে। কুচিয়াবাড়ির ইমরান আহমেদ (৩০) বলেন, প্রতারকচক্র বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে এই ০১৭৫২২৪৪৫৯৭ নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে আমাকে জানায় ভুল করে আপনার মোবাইল নাম্বারে চার হাজার টাকা চলে গেছে। তখন আমি তাকে জানাই, আমার ফোনে কোনো ম্যাসেজ আসেনি। তবুও আমার বিকাশের ব্যালেন্স দেখে আপনাকে (কলদাতা) জানাচ্ছি টাকা আসছে কিনা। এরপর ব্যালেন্স চেক দেখি কোনো টাকা যোগ হয়নি। ইমরান আরো বলেন, কিছুক্ষণ পরে প্রতারকচক্রটি আবার ফোন দেয় আমাকে। তাদের জানাই কোনো টাকা বা ম্যাসেজ আসেনি। আমার নিজের ব্যালেন্স সাত হাজারের মতো আছে। এর কিছুক্ষণ পরে ৮টা ১৩ মিনিটে প্রতারকচক্রের সেই নাম্বার থেকে আমার ফোনে এই ম্যাসেজটি আসে- Cash In Tk 6,990.00 from 01752244597 successful. Fee Tk 0.00. Balance Tk 13,994.18. TrxID 4864790046 at 17/03/2016 19: 55। কিন্তু আমার ব্যালেন্স এবং মেসেজে পাঠানো টাকার অঙ্ক যোগ করে দেখতে পাই টাকার হিসাব মিলছে না। কারণ, সেই মুহূর্তে আমার ঠিক ব্যালেন্স ছিল সাত হাজার ৯২৭ টাকা ৫৮ পয়সা। টাকার হিসাব না মিলায় সেই টাকা ফেরত দিতে আমি কিছুটা দেরি করি। এর মধ্যে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রতারকচক্র অন্তত আটবার ফোন দিয়ে টাকা ফেরত পেতে অনেক আকুতি ও মিনতি জানায়। এছাড়া আমার বিকাশ ব্যালেন্সে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে একটি গোপন নাম্বার চাপতে বারবার অনুরোধ করে। বিষয়টি সন্দেহে হলে আমি সেই গোপন নাম্বার না চেপে ফোন কেটে দিই। প্রতারণার এই ব্যাপারটি বিকাশের এক এজেন্ট এবং মাঠকর্মীর কাছে জানাই। প্রতারকদের দু’টি (০১৭৫২২৪৪৫৯৭ এবং ০১৮১১১১১৯৫২) নাম্বারে কথা বলে বিকাশের এক মাঠকর্মীও জানতে পারেন তারা প্রতারকচক্রের সদস্য। তারা (প্রতারকচক্র) মাগুরা থেকে কথা বলছে বলে জানায়। এদিকে, লোহাগড়ার ঝিকড়ার বিকাশ এজেন্ট জিন্নাত হোসেন জানান, বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনিও। বিকাশের মাঠকর্মী ও কর্মকর্তারা বলেন, ম্যাসেজসহ বিভিন্ন কথা বলে প্রতারকচক্রটি গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কোনো একটি নাম্বার চাপার কথা বলে গ্রাহকের বিকাশ সেবাটি হ্যাকড করে তার (গ্রাহক) ব্যালেন্স বা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা। এসব প্রতারকদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।