বিস্তারিত

পহেলা জুন থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল শুরু হতে পারে

ছবি : সংগ্রহকৃত

পহেলা জুন থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল শুরু হতে পারে। বুধবার এমন ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, দেশব্যাপী চলমান সাধারণ ছুটি আগামী ৩০ মে শেষ হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে ওইদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বিমান চলাচলও। সরকারি ছুটি শেষ হলেও বিমান চলাচলের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আশা করছি, আগামীকাল একটা সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।

এদিকে গত ২ মে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে এয়ারলাইন্সগুলোকে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়েছে বেবিচক।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্লাইট সংখ্যা নিয়মিত থেকে কম হবে। ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ যাত্রী নেয়া যাবে। প্রতিটি ফ্লাইটের আগে প্লেন ডিসইনফেক্টেড বা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্রতিটি যাত্রীর জন্য নতুন হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক সরবরাহ করতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দরগুলোকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে জীবাণুনাশক ছিটাতে হবে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তিনটি ফ্লাইট ছাড়তে পারবে।

প্রায় দুই মাস বন্ধ রাখার পর ভারতে সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১৬ মার্চ থেকে যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য সব দেশ থেকে যাত্রীদের আসা বন্ধ করে বাংলাদেশ। পরে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে চীন ছাড়া অন্য সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইটও। তবে চার্টার্ড ফ্লাইট ও কার্গোবাহী ফ্লাইট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি অবতরণ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত আছে।

বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলো বন্ধের মধ্যে তাদের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল শুরুর বিষয়ে সরকারকে তাগাদা দিতে শুরু করেছে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো।

কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পরই যাত্রীবাহী বিমান সংস্থাগুলোর বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করেছিল ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন।

মার্চের শুরুতেই সংগঠনটি বলেছিল, লকডাউন চলমান থাকলে বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলো ১১৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আগের বছরের তুলনায় তাদের ব্যবসা কমবে ১৯ শতাংশ। অবশ্য কোনও কোনও সংস্থা এর চেয়ে বেশি ক্ষতির পূর্বাভাস দিয়েছে।

বাংলাদেশে সংকটে থাকা সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোও সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়াও দেশে আরও তিনটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স রয়েছে। এগুলো হল- ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, নভো এয়ার ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ।

এই চারটি এয়ারলাইন্সের জনবল রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। এছাড়া ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, হজ এজেন্সিসহ ভ্রমণ ব্যবসায় জড়িত চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষের জীবিকাও নির্ভর করছে এ খাতের টিকে থাকার ওপর।

এয়ারলাইন্সে কর্মরতদের বেতন অন্যান্য অনেক খাতের তুলনায় বেশি হওয়ায় এ খাতের খরচও বেশি। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ব্যয়বহুল বিষয় যেমন- উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, বন্দরে পার্কিং ও অন্যান্য ফি, ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজের অর্থ পরিশোধ করার মতো বিষয়গুলো।

এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসেসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়েই এভিয়েশন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আমাদের দেশেও ব্যতিক্রম নয়, বরং এখানে সংকট গভীর। এখনও ফ্লাইট অপারেশন শুরু হয়নি। এ পরিস্থিতি কত দিন চলবে সঠিক জানি না।

বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোতে প্রায় চার হাজার জনবল কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হলে লোকবলের প্রয়োজন হবে। তাই আমার প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। আশা করি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের চিন্তা করছে না।

কয়েক মাস ধরে কোনও আয় না থাকলেও নিজস্ব অর্থায়নেই কর্মীদের বেতন, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে হচ্ছে।

দেশের চারটি এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন মডেলের ৪৪টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি নিজস্ব উড়োজাহাজ এবং বাকি ২৪টি ভাড়ায় আনা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস নাগাদ বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্স ৯০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা চলছে।

বিমান এই পরিস্থিতির মধ্যেও বিভিন্ন দেশে চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা করে আয়টা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। সরকার যে ঋণ দিয়েছে সেখান থেকে বিমান এক হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। এই ঋণ প্রাথমিক সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশের সব বিমান পরিবহন কোম্পানিই সরকারের বিভিন্ন রকমের আর্থিক সহায়তা যেমন- নির্ধারিত প্রণোদনা, স্বল্প সুদে ঋণ এবং বিমান পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য সব নির্ধারিত ফি মওকুফ চাইছে।

এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসেসিয়েশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সরকারের কাছে জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করা, যন্ত্রাংশের ট্যাক্স মওকুফ, ল্যান্ডিং, পার্কিং, নেভিগেশন চার্জ মওকুফসহ সরকারের নীতি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সংবাদের ধরন : র্শীষ সংবাদ নিউজ : নিউজ ডেস্ক