বিস্তারিত

পটুয়াখালীতে শেখ কামাল-শেখ জামাল সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগ্রহকৃত

অবশেষে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মিত ‘শেখ কামাল সেতু’ ও একই সড়কের সোনাতলা নদীর ওপর নির্মিত ‘শেখ জামাল সেতু’ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ফ্রেব্রুয়ারি) বেলা  ১১ টার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতু দুটি’র উদ্বোধন করবেন বলে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল এবং মেঝো ছেলে শেখ জামালের নামে এ দুটি সেতুর নামকরণ করা হয়েছে। এই সেতুর দ্বার উন্মোচন করা হলে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আন্ধারমানিক নদীর উপর শেখ কামাল সেতুটি নির্মানের জন্য ২০১০ সালের ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি দরপত্র আহ্বান করে ২০১১ সালের ১২ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়। এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৮৯১ দশমিক ৭৬ মিটার। এতে ১৯ টি স্প্যান রয়েছে। দু’দিকে রয়েছে ৫৫৫ মিটার সংযোগ সড়ক। নির্মানে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরবিএল-এমবিইএল-জেবি সেতুর নির্মান কাজ যৌথভাবে সম্পন্ন করেছে। গত বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এ সেতুর সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে একই সড়কের হাজীপুর-পুরাণ মহিপুর পয়েন্টে শেখ জামাল সেতুর দরপত্র ২০১১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আহ্বান করা হয়। ২০১২ সালের ৭ মার্চ এর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৪৮২ মিটার। এতে ১০ টি স্প্যান রয়েছে। সেতুটির উভয় দিকে ৪৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মান করা হয়েছে। এ সেতু নির্মানে ব্যয় হয়েছে ৪৩ কোটি ৪৩ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স সেতুর নির্মান কাজ জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়েছে। এর আগে গত বছরের ২০ আগষ্ট ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহিপুর-আলীপুর পয়েন্টে শিববাড়িয়া নদীর ওপর নির্মিত শেখ রাসেল সেতু উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কলাপাড়া পৌর শহরের কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের শিববাড়িয়া নদীর ওপর শেখ রাসেল সেতু, সোনতলা নদীর ওপর শেখ জামাল সেতু এবং আন্ধারমানিক নদীর ওপর শেখ কামাল সেতুর নির্মান কাজের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন।
পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের  সহ-সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মাত্র ২ কি. মি. সড়কের তিনটি ফেরি পারাপার এতদিন ছিল পর্যটকদের কাছে চরম বিড়ম্বনার। দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকসহ সাধারন মানুষকে বছরের পর বছর বিড়ম্বনা সহ্য করতে হয়েছে। আজ সেতু দুটি চালু হয়ে গেলে সাধারণ মানুষসহ পর্যটকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে। কুয়াকাটায় পর্যটকদের সংখ্যা-ও বহুগুনে বেড়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি এই সেতু চালু হলে কুয়াকাটার পর্যটন নির্ভর ব্যবসা-বানিজ্য নতুন করে গতি ফিরে পাবে। পটুয়াখালীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দক্ষিনাঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ দুটি সেতু উন্নয়নের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স করে সেতু দুটির দ্বার উন্মোচন করার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচলের জন্য সেতু দুটি খুলে দেওয়া হবে। আমরা মনে করি সেই সঙ্গে মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও পুরণ হবে।’

সংবাদের ধরন : শিরোনাম নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার