বিস্তারিত

নিজের মুখেই ‘লাভস্টোরি’ শোনালেন রেখা

ছবি : সংগ্রহকৃত

আজও বলিউডের এভারগ্রীন জুটি হিসেবে বিবেচিত রেখা-অমিতাভ। টিনসেল টাউনে কান পাতলেই শোনা যায় এক অনন্য প্রেমের কাহিনী। যার সূত্রপাত পহেলি নজরে। যদিও সেই প্রেমের কাহিনী নিয়ে সরাসরি কোনও কথা বলেননি দুজনের কেউই। এবার সেই গোপন কথাটি স্বীকার করলেন রেখা নিজেই। সম্প্রতি এক রিয়েলিটি শোতে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিষয়টি নিয়ে। তবে এ ক্ষেত্রেও কিন্তু সরাসরি প্রশ্নবানে বিদ্ধ করা হয়নি ‘ফরেভার ইয়ং’ অভিনেত্রীকে। বরং একটু ঘুরিয়ে পেঁচিয়েই বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে রেখা কিন্তু রাখঢাক করেননি এবার। বরং সাফ জানিয়ে দিলেন ‘পরদেশিয়া’-র প্রেমে আজও হাবুডুবু খাওয়ার কথাটি।

শো-র উপস্থাপক জয় ভানুশালী বিচারকের আসনে বসে থাকা বিশেষ অতিথি রেখা এবং অপর বিচারক নেহা কক্করকে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন,’রেখা জি, নেহু আপনারাই বলুন বিবাহিত কোনও পুরুষের জন্য কোনও মহিলা এতটা পাগল হতে পারেন?’ সঙ্গে সঙ্গে মোহময়ী স্বরে রেখার উত্তর, ‘ মুঝসে পুছিয়ে না…।’ এরপরেই জিভ কেটে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু কিছু বলিনি।’ হাসির রোল ওঠে গোটা সেটে। অনেকেই বলে ওঠেন, ‘গুড ওয়ান’।

সময়টা ১৯৭৬ সাল। ‘দো অঞ্জানে’-র সেটে প্রথম পরিচয় হয়েছিল অমিতাভ রেখার। তার আগেই জয়া বচ্চনের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন বিগ বি। বলিউডের তদানিন্তন অভিনেতাদের দাবি ছিল, সমাজের নানা নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল পেরিয়ে চুপকে চুপকে দুজনে দেখা করতেন এক বন্ধুর বাংলোয়। তখন অবশ্য গোপন কথাটি গোপনেই ছিল। তবে বাধ সাধল ‘৭৮ সালের একটি ঘটনা। ‘গঙ্গা কি সৌগন্ধ’ ছবির সেটে রেখার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন এক সহ অভিনেতা। এবারে আর মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি বলিউডের শাহেনশাহ। দু-চার কথা শুনিয়ে দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকেই তাঁদের গোপন প্রেম প্রকাশ্যে চলে আসে। যতবারই প্রেম নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দুজনেই বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। তবে প্রেম কী আর লুকানো যায়?

যশ চোপড়া একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘সিলসিলা’ ছবির শুটিংয়ের সময় নায়ক নায়িকার প্রেম তুঙ্গে ছিল। এতকিছুর পরেও কিন্তু টু শব্দটি করেননি রেখা। এমনকী এও রটে গিয়েছিল যে দুজনে পালিয়ে বিয়ে পর্যন্ত সেরে ফেলেছেন। জয়া বচ্চনেরও চোখ এড়ায়নি দুই অভিনেতার বন্ধুত্ব। কথিত আছে, একবার রেখাকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন জয়া। ডিনার টেবিলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি কোনওদিনও অমিতাভকে ডিভোর্স দেবেন না। এরপরেই নাকি পিছিয়ে আসেন রেখা।

১৯৮৪ সালে এক পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেখা বলেছিলেন, ‘মিস্টার বচ্চন কিছুটা প্রাচীন পন্থী। তাঁর সংসার ছিল, ছেলেমেয়ে ছিল। আমার সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নিলে, তাঁর পরিবারের কী হতো? আমি কারও সংসার ভাঙতে চাইনি। তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করুন, এমনটাও চাইনি। আমি তাঁকে ভালোবাসি। তিনি আমাকে। ব্যক্তিগত জীবনে যদি আমাকে না চিনতেন, তাহলে কষ্ট হতো।’

১৯৯০ সালে বিয়ের পিঁড়িতেও বসেছিলেন রেখা। তবে বিয়ের সাত মাসের মধ্যে তাঁর স্বামী আত্মঘাতী হয়েছিলেন। তবে সিঁথির সিঁদুর মুছে দেননি অভিনেত্রী। অনেক ভক্তের দাবি, অমিতাভের নামের সিঁদুর পড়েন তিনি। যদিও রেখার দাবি, তাঁর সিঁদুরে সাজতে ভালো লাগে। কালের স্রোতে খানিকটা হলেও মিলিয়ে গিয়েছিল দিল দেওয়া নেওয়ার গল্প। তবে এদিনের ঘটনার পর আবারও বলিউডের প্রেক্ষাপটে অমিতাভ রেখার প্রেম কাহিনী নিয়ে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে।

সংবাদের ধরন : বিনোদন নিউজ : নিউজ ডেস্ক