বিস্তারিত

তিতাসের ফতুল্লা জোনের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

ছবি : সংগ্রহকৃত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ফতুল্লা জোনের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তিতাসের ফতুল্লা অফিসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক মাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মো. মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী মো. আইউব আলী, সাহায্যকারী মো. হানিফ মিয়া এবং প্রো-কর্মী মো. ইসমাইল প্রধানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ওদিকে জেলা প্রশাসনের গণশুনানিতে ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববির অফিস কক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। তবে এরপরও কেউ সাক্ষ্য দিতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সোমবার তদন্তের তৃতীয়দিন অতিবাহিত হয়েছে। আরো দুই কার্যদিবস বাকি। এরমধ্যে কেউ শুনানিতে অংশ নিতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি বলেন, শুরুতে সাক্ষ্য দিতে কেউ না এলেও দুপুর ‘১টা থেকে লোকজন আসতে শুরু করে। বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত ১৮ জন গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও যারা আসবে তাদের প্রত্যেকেরই কথা আমরা শুনবো। তারা মূলত ঘটনার বর্ণনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে এগুলো বলা যাচ্ছে না। একদিনের জন্যই এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘তদন্তের অগ্রগতি আছে। তবে এখনও আমরা কিছুই বলতে পারছি না। বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন তারা রিপোর্ট দেয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। এছাড়াও আমরা এলাকাবাসী, মসজিদ কমিটির সঙ্গেও কথা বলেছি। তারপরও যারা সেখানে কথা বলতে চাইনি কিংবা কেউ স্বেচ্ছায় কিছু জানাতে চায় তাদের জন্য এ গণশুনানির ব্যবস্থা করা হয়। যাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর কেউ না বলতে পারে আমাকে কথা বলতে দেয়া হয়নি। কিন্তু ঘটনায় অনেকেই মারা গেছেন। যারাও বেঁচে আছেন তারা গুরুত্ব অবস্থায় আইসিইউতে। দুই-একজন সুস্থ হলে আমরা তাদের সঙ্গেও কথা বলবো। তারপর আমরা প্রতিবেদন জমা দেবো। আমরা সবার কথা শুনছি। নির্দিষ্ট সময়েই প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত বিস্ফোরণের ঘটনায় শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববিকে প্রধান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এটিএম মোশাররফ ও ফায়ার সার্ভিস, তিতাস ও বিদ্যুতের ডিডিকে সদস্য করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে গত শুক্রবার এশার নামাজের সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ৪২ জনের মধ্যে ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বার্ন ইউনিটে ভর্তি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সোমবার বিকাল পর্যন্ত পর্য ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

এদিকে দুর্ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছিলেন তিতাসের এমডি আলী মো. আল মামুন। এ সময় তিতাসের গাফিলতির কারণেই মসজিদে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় মুসল্লিরা।

সংবাদের ধরন : র্শীষ সংবাদ নিউজ : নিউজ ডেস্ক