বিস্তারিত

চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি : সংগ্রহকৃত

চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। আগামী ১১ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ শিথিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।রোববার বিকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। সড়কপথে মোট যানবাহনের অর্ধেক চলাচল করবে। হোটেল-রেস্তোরাঁ অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে যেসব নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে-

১. সব সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্বশাসিত/বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক খোলা থাকবে।

২. বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৩. সড়ক, রেল ও নৌপথে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ/যানবাহন চলাচল করতে পারবে। সড়ক পথে গণপরিবহণ চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন (সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক) নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর/সংস্থা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহণ সংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে।

৪. শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাটসমূহ সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক খোলা রাখা যাবে।

৫. সকল প্রকার শিল্প-কলকারখানা চালু থাকবে।

৬. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

৭. সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে; এবং

৮. গণপরিবহণ, বিভিন্ন দপ্তর, মার্কেট ও বাজারসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এর আগে দুপুরে ১১ আগস্ট থেকে চলমান বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল করে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহণও আস্তে আস্তে চালু হবে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এর কিছু পরেই এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ১০ আগস্টের পর সবকিছু ধাপে ধাপে খুলবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে করোনা সংক্রমণ কমে এলেও মৃত্যুর হার কমেনি। এরপরেও জীবন-জীবিকার তাগিদে ও অর্থনৈতিক বিষয়টি চিন্তায় রেখে আগামীতে দোকানপাট আস্তে আস্তে খুলে দিতে হবে। কিন্তু সবাই যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। এখন আমরা জনগণের জন্য মাস্ক পরার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বর্তমানে গণটিকাদান কর্মসূচি চলছে, তা ১২ ‌আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মজীবী মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মজীবীদের টিকার আওতায় আনার পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধাপে ধাপে সব কিছুই খুলে দেওয়া হবে। সীমিত পরিসরে গণপরিবহণ ও অফিস-আদালত সব কিছুই চালু করা হবে।

ফরহাদ হোসেন বলেন, মানুষকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে পাড়া ও মহল্লায় কমিটি করে দেওয়া হবে। সামাজিকভাবে মানুষকে সচেতন করতে এ কমিটি কাজ করবে।

সংবাদের ধরন : র্শীষ সংবাদ নিউজ : নিউজ ডেস্ক