বিস্তারিত

কেন্দ্র দখল জালভোট সহিংসতায় নিহত ৮

bdnews ছবি : সংগ্রহকৃত

bd news,bdnews,bdnews24,bdnews24 bangla,bd news 24,bangla news,bangla,bangla news paper,all bangla newspaper,bangladesh newspapers,all bangla newspaper,bangla news paper,bangladesh newspapers,all bangla newspapers,bd news 24,bangla news today,bd news paper,all bangla news paper,bangladeshi newspaper,all bangla newspaper,all bangla newspapers,bdnews,bangla news,bangla newspaper,bangla news paper,bangla news 24,banglanews,bd news 24,bangla news today,bd news paper,all bangla news paper,bangladeshi newspaper,all bangla newspaper,all bangla newspapers

ভোট শুরুর আগেই ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরে বাক্সভর্তি করা, কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান ও ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন শেষ হয়েছে। এতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে ছয়জন এবং ঝালকাঠি ও নেত্রকোনায় দু’জন মিলে আটজন নিহত হয়। প্রথম ধাপে গতকাল দেশের ৩৪ জেলার ৭১২টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা কেন্দ্র দখলের উৎসবে মেতে ওঠেন। বিরোধীরা বাধা দিতে গেলে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঝালকাঠি ও নেত্রকোনায় দু’জন নিহত ও বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধসহ কয়েক শ’ লোক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কিছু স্থানে গুলিবর্ষণ করে। অনেক ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছেন। মঠবাড়িয়ায় নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন : সোহেল (২৫) শাহাদাত (৩০), কামরুল মৃধা (২৫), বেলাল (৩০) এবং সোলায়মান (২৫)।
আমাদের মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, ধানীসাফা ইউনিয়নের কলেজ কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোপন সূত্রে খবর পান যে তিনি পরাজিত হতে যাচ্ছেন। এ খবর শোনার পর তার সমর্থকেরা মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমর্থকদের অনেক বোঝানোর পরেও তারা সেøাগান দিতে থাকেন এবং ইট পাটকেল ছুড়েন। এ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পটকা নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান গুলিবিদ্ধ হন আরো ৮-১০ জন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেয়া হলে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়। মঠবাড়িয়া থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠিতে নির্বাচনী সহিংসতায় এক ইউপি সদস্য প্রার্থী চুন্নু সিকদারের ভাই আবুল কাশেম সিকদার (৫৫) নিহত হয়েছেন। নিহতের ছেলে সোহাগ সিকদার এ কথা জানান। বেলা ২টার দিকে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের কালিয়ান্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জালভোট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আবুল কাশেম সিকদার গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে আহতহন কমপক্ষে পাঁচজন। বেশির ভাগ ইউনিয়নে বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
একই ইউনিয়নের কাপড়কাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অসতর্কতাবশত আনসার সদস্যের গুলিতে গৌরাঙ্গ বেপারি (৬০) নামে এক ভোটার আহত হয়েছেন। গৌরাঙ্গ বেপারি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর দিকে গাভারামচন্দ্রপুরে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ) প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লিটনের ছোট ভাই প্রিন্স খানকে কুপিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষ। এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে অর্ধশত আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ দিকে ভোট শুরুর আগে গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লিটনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমুয়ায় সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে পুলিশ ফাঁকাগুলি ছুড়েছে। অন্য দিকে শৌলজালিয়া ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫ আহত হয়েছেন। নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে ঝালকাঠির ৩০ ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন।
নেত্রকোনা সংবাদদাতা জানান, জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায় ৩ নম্বর খালিয়াজুরী ইউপি নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে গত রাতে ভোট গণনার সময় সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম আবু ইছহাকের ছোট ভাই গোলাম আবু কাওসার (৩০) নিহত হয়েছেন। আধাউড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় দুই পরে মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) খান মোহাম্মদ আবু নাসের একজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, সংঘর্ষ, গুলি, ভোটগ্রহণ স্থগিত ও ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার ৭৪টি ইউনিয়নে গতকাল ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। হামলা ও সংঘর্ষে শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারাসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে জেলায় আ’লীগের একজনসহ ১৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। এ দিকে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও জালভোট প্রদান নিয়ে সৃষ্ট গোলযোগে জেলার পাঁচটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
জেলার উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ি এলাকায় সকাল ১০টায় আ’লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকেরা। এ সময় ১৫ জন আহত হন। বানারীপাড়া উপজেলার পূর্ব সৈয়দকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আ’লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা ব্যালেট বাক্স ছিনতাই করার চেষ্টা করলে পুলিশ দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভেদুরিয়া গ্রামে ইউপি সদস্য প্রার্থী দুলাল বেপারি ও দলিল উদ্দিনের সমর্থকদের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। মুলাদীর কাজীরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বাহাদুরপুর গ্রামে মেম্বার প্রার্থী কাওসার প্যাদা ও হানিফ সরদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। গৌরনদীর মাহিলাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে শরিফাবাদ কেবলারভিটা গ্রামে মেম্বার প্রার্থী হারুন-অর রশিদের সমর্থকেরা অপর প্রার্থী মিন্টু সিকদারের সমর্থকদের ওপর হামলা চালালে পাঁচজন আহত হন। বার্থী ইউনিয়নের সংরতি ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী শিপ্রারানী দত্তের সমর্থকদের ওপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রানু বেগমের সমর্থকেরা হামলা চালালে কমপে ১০ জন আহত হন। একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী খায়রুল আহসান খোকনের সমর্থকদের সাথে অপর প্রার্থী সোবহান হাওলাদারের সমর্থকদের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। বাবুগঞ্জের আগরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাহ্মণদিয়া গ্রামে সাধারণ ইউপি সদস্য প্রার্থী আবদুর রব বেপারির সমর্থকদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাবুল বেপারির সমর্থকদের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন।
ভোলা সংবাদদাতা জানান, ভোলায় ৩৬টি ইউনিয়নে ব্যাপক সঙ্ঘাত, সহিংসতার মধ্য দিয়ে ইউপি নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, মনপুরা ও লালমোহন উপজেলায় অন্তত ৩৫টি কেন্দ্রে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। এসব ঘটনায় মেম্বার প্রার্থী, পুলিশসহ ১৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৬ জনকে ভোলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মনপুরার হাজীর কেন্দ্রে ধানের শীষে ভোট দেয়ায় জাকির হোসেন নামের এক কৃষককে পিটিয়ে আহত করেছে যুবলীগ কর্মীরা। এসব ঘটনায় পুলিশ এক মেম্বার প্রার্থীসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। সংঘর্ষের বেশির ভাগ ঘটনায়ই ঘটেছে ক্ষমতাসীন দলের মেম্বার প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে। সংঘর্ষের কারণে সাতটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে তজুমদ্দিন উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বেশির ভাগ কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে ভোলা জেলা বিএনপি। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন।
ভোলার পুলিশ সুপার মোহা: মনিরুজ্জামান বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
নরসিংদী সংবাদদাতা জানান, কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে সিল মারাসহ আ’লীগের প্রার্থী ও কর্মীদের আধিপত্য বিস্তারের মধ্য দিয়ে জেলার পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ও গজারিয়া ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম ও সন্ত্রাসের মুখে ডাঙ্গা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ সৈয়দ ইকবাল সকাল সাড়ে ৯টায় নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দেন। বিএনপি প্রার্থী হাজী শফিকুল ইসলাম স্বপনের সমর্থকেরা জানান, সকাল ৮টায় তাদের পক্ষের এজেন্টরা কেন্দ্রে গেলে আ’লীগের সন্ত্রাসীরা তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। ডাঙ্গা ইউনিয়নে ১১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় সব কেন্দ্র থেকেই এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকা মার্কার ভোটকর্মীরা সিল মেরে বাক্সভর্তি করেন। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় বর্তমান চেয়ারম্যান হাজী সৈয়দ ইকবালের বাড়িতে হামলা চালান আওয়ামী লীগের কর্মীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিবপুর, আড়াই হাজার, নরসিংদী, কালিগঞ্জ এলাকা থেকে আ’লীগের শত শত বহিরাগত নেতাকর্মী গজারিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলো দখল করে রাখে। ফলে ভীত সন্ত্রস্ত ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে সাহস পাননি।
কুষ্টিয়া ও মিরপুর সংবাদদাতা জানান, জেলার ১১টি ইউনিয়নের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি চারটি ইউনিয়নে পুনর্নির্বাচন ও কয়েকটি ইউনিয়নে কিছু কেন্দ্রে ফের নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এ দিকে উপজেলার জামায়াতের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা সারা দিনই ঘরে অবরুদ্ধ ছিলেন। গতকাল সকাল থেকেই আমলা, সদরপুর, ফুলবাড়িয়া, বহলবাড়িয়া ইউনিয়নে সব কেন্দ্র আ’লীগের নেতাকর্মীরা দখল করে ব্যালট বাক্স ভর্তি করেন। অন্য ইউনিয়নগুলোতে জাসদের শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় তারা পুরো দখলে আনতে পারেনি। তবে অনেক কেন্দ্রে দুপুরের পর থেকে আ’লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে জালভোট প্রদান ও জোর করে ব্যালেটে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমলা ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা ভোটকেন্দ্রে আসতেই পারেননি।
গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, জেলার টুঙ্গিপাড়ার গোপালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গুয়াধানা বেনী মাধব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ওই কেন্দ্রে ১৫ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ১৫ মিনিট পর আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
দৌলতখান (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, দৌলতখান উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নির্বাচন ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, প্রিজাইডিং অফিসারকে হুমকি প্রদানসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছেন। অন্য দলের প্রার্থীরা বেশির ভাগ স্থানেই কেন্দ্রে যেতে পারেননি।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ভোটগ্রহণ স্থগিত, ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোটদানে বাধ্য করা, কেন্দ্র থেকে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া, বিভিন্ন স্থানে মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টাহামলা, ভোট কারচুপি ও বর্জনের মধ্য দিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হয়েছে। সংঘর্ষে বিভিন্ন স্থানে ১০ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিটি কেন্দ্রে আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে ভোট দিতে ভোটারদের বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভোটাররা। গৈলা ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হোসেন লাল্টু জানান, প্রতিটি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন নৌকা মার্কার সমর্থকেরা। ভোট কারচুপির অভিযোগে বাকাল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লাবণ্য আক্তার ও রতœপুর ইউনিয়নের আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহীন আলম টেনু নির্বাচন বর্জন করেছেন।
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে সিরাজদিখান উপজেলায় দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খাসমহল বালুচর কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে এএসআই রাজিব ও কনস্টেবল মেহেদি হাসানের নাম জানা গেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তিন রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে। মুন্সীগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (লৌহজং সার্কেল) সামছুজ্জামান বাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার ১২ ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা ইউনিয়নের ভাগবাহ ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট জালিয়াতির সময় পুলিশের গুলিতে ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস ও তার ছোট ভাই রুহুল আমিন আহত হন। গুলিবিদ্ধদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাটকেলঘাটা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।অন্য দিকে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্রকাটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপিতে বাধা দেয়ায় চার আনসার সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেছেন আ’লীগের নেতাকর্মীরা। এ দিকে উপজেলার তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
কুমিল্লা সদর দণি ও দেবিদ্বার সংবাদদাতা জানান, দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী মাসুদ হাসান গতকাল দুপুরে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। আ’লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: সিরাজুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল, অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার দুপুরে ওই ইউনিয়নের ফুলতলী এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে কাজী মাসুদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, বেড়ার ৯টি ইউনিয়নে বিভিন্ন কেন্দ্র দখল ও জালভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নতুন ভারেঙ্গা ও মাসুমদিয়া ইউনিয়নে আ’লীগ প্রার্থীদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোট কেটে নেয়া ও জালভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাসুমদিয়া ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী সামসুর রহমান সমেজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
মনিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে শ্যামকুড়, মশ্মিমনগর ও ঝাঁপা ইউনিয়নের ১০টি ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্যামকুড় ইউনিয়নের নাগোরঘোপ, মুজগুন্নি সৈয়দ মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে আ’লীগ প্রার্থীর কর্মীরা ভোট কেটে নিয়েছেন। এ ইউনিয়নে বিএনপির চেয়াম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মশিউর রহমান জানান, আ’লীগের প্রার্থী মনিরুজ্জামানের (মনি) লোকেরা দুপুরের আগে পাঁচটি কেন্দ্র দখল করে সিল মেরেছেন। স্থানীয়রা জানান, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইয়ামিল হোসেন ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী একাট্টা হয়ে কেন্দ্র দখল করেছেন।
পিরোজপুর ও মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, জেলার সাতটি উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নে গতকাল সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও মঠবাড়িয়া ও কাউখালী উপজেলায় কয়েকটি ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাইকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে।
সকাল সাড়ে ৯টায় মঠবাড়িয়া উপজেলার ১১ নম্বর বড়মাছুয়া ইউনিয়নের মধ্য বড়মাছুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আ’লীগের প্রার্থী নাসির উদ্দিন ৪০-৫০ জন কর্মী নিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই করার সময় পুলিশ ১৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিতে যুবলীগ নেতা কামরুল আকন আহত হন। এ ছাড়াও কাউখালী উপজেলার সয়না-রঘুনাথপুর ইউনিয়নে পূর্ব হোগলা বেতকা, দক্ষিণ বেতকা ও মেঘপালসহ চারটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার। নেছারাবাদের প্রতিটি ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রগুলো সরকার দলীয়দের দখলে ছিল। ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের অনেক কেন্দ্র দখল করে নৌকায় সিল মেরেছেন সরকার দলীয়রা।
বরগুনা সংবাদদাতা জানান, জেলার বেতাগী সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো: বশিরুল আলম পলাশ নামে এক সদস্য প্রার্থীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করেছে প্রতিপ। এদের বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রার্থী বশিরুল আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের অযোদ্ধা গ্রামে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মো: নজরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: খালেক জমাদ্দারের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে খোলপটুয়া কেন্দ্র দখল নিয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের ২৫ জন আহত হন। উপজেলার সদর ইউনিয়নে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি।
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিংজোড় চণ্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুর হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ভোটগ্রহণ বন্ধসহ মারপিটে প্রিজাইডিং অফিসার আহত হন। মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, কেন্দ্র দখল, হামলা, ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও অগ্নিসংযোগসহ নানা বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ৪ ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। মুন্সীগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (লৌহজং সার্কেল) সামছুজ্জামান বাবু জানান, কয়েকটি কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তা দমন করেছে।
বগুড়া অফিস জানায়, জেলার সারিয়াকান্দিতে ভোটকেন্দ্রে হামলা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জালভোট প্রদান এবং প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দেয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে হাঙ্গামার অভিযোগে এক যুবলীগ নেতাসহ তিনজনের জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া কেন্দ্র দখল করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেটে নেয়ার সময় এক আওয়ামী লীগ কর্মী ছুরিকাহত হয়েছেন।
ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, জেলার ২৯ ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন। গতকাল বিকেলে দলীয় কর্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর ভোট বর্জনের এ ঘোষণা দেন।
বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল, ব্যালট কেড়ে নেয়া, ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে পুকুরে নিক্ষেপ, প্রকাশ্যে সিল দিতে বাধ্য করা ও জালভোটের মতো নানা অনিয়মের অভিযোগে সাতজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে গতকাল বাউফলের ১১ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, রাজাপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫৪ কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ২০টি কেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, হামলা-সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সহিংসতায় ওই সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে বিঘœ ঘটে এবং বন্ধ থাকে। এসব ঘটনায় একাধিক মেম্বর প্রার্থীসহ অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। দুপুরের আগেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, কারচুপি, জালভোট দেয়া, এজেন্ট বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ৬ ইউনিয়নের মধ্যে ৪ ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছেন।
গলাচিপা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, গলাচিপা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চারটি ভোটকেন্দ্র স্থগিত, প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সিল মারা, মারামারি ও ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রার্থীরা ভোট বর্জনসহ ব্যাপক অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নে তিনটি ভোটকেন্দ্র স্থগিত করেছেন মোবাইল কোর্ট।
সাতীরা সংবাদদাতা জানান, আ’লীগ প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র দখল, প্রতিপরে এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, বুথের মধ্যে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে নেয়া, ব্যালট কেটে বক্সে ভর্তিসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে জেলার ৭৮টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এ সময় নৌকা প্রতীকের ব্যালট পেপার কেটে বাক্স ভর্তি করার সময় পুলিশের গুলিতে দুই আ’লীগ কর্মী আহত হন। পাঁচ উপজেলার ১৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী।
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা জানান, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ও জালভোট প্রদানের অভিযোগের মধ্য দিয়ে জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নির্বাচন হয়েছে। সকাল সোয়া ৯টার দিকে ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে এলাঙ্গী ইউনিয়নের বলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে হুমায়ুন খান নামে এক যুবককে কুপিয়ে আহত করা হয়। তাকে কোটচাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের নির্বাচনে সহিংসতায় পুলিশ ও নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়েছে পুলিশ। এ ছাড়াও পাঁচটি কেন্দ্রে প্রকাশ্যে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, চারজনকে শেরপুর সদর ও বাকিদের নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ অফিস ও ফুলপুর সংবাদদাতা জানান, ফুলপুর উপজেলায় নির্বাচন চলাকালে অবৈধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: এনামুল কবীরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ দিকে খরিয়াপাড়া মাদরাসা কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এ সময় ১০ জন আহত হয়েছেন। কাউন্সিলর প্রার্থীর চারটি ব্যালট পেপার না পাওয়ায় গনুয়াকান্দা দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, সকাল ৯টায় কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিএনপি ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্টরা ফোন করে জানান, আওয়ামী লীগের লোকজন কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ভোটারদের বাধ্য করা হচ্ছে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারতে। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথমে যশোদল ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে স্বচক্ষে এ দৃশ্য চোখে পড়ল। কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের শালজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একই চিত্র দেখা যায়। তখন বেলা পৌনে ১২টা। এই কেন্দ্রের মহিলা বুথে গিয়ে দেখা যায়, এখানে পুরুষ ভোটারেরাও ভোট দিচ্ছেন। চেয়ারম্যান পদের ব্যালটে প্রকাশ্যে সিল মারার বিষয়টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই প্রার্থীর সমর্থক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অফিসার এবং রিটার্নিং অফিসার এ টি এম সেলিম নয়া দিগন্তকে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।
উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, ভোট কারচুপির কারণে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে উজিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে পাল্টা-পাল্টি হামলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়েছেন এবং প্রত্যেক ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ছাড়া অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের এজেন্ট বের করে দেয়া, জোর করে ব্যালট পেপার ও বক্স ছিনিয়ে নেয়া, প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা, প্রিজাইডিং অফিসারদের মাধ্যমে ভোট কাটার অভিযোগে ৭ ইউনিয়নে বিএনপির ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী, ওয়ার্কার্স পার্টির ১, স্বতন্ত্র ২ জনসহ মোট ১০ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার