বিস্তারিত

কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেনিস রিচিকে কি মনে পড়ে?

bdnews, bdnews.news ছবি : সংগ্রহকৃত

ডেনিস ম্যাকাএলিসটার রিচি। প্রযুক্তি খাতের অপ্রচারিত একটি নাম। প্রায় অপ্রচারিত নামটির পেছনের গল্প কিন্তু খুব অপরিচিত নয়। কারণ আজকের প্রোগ্রামিং ভাষা সি ল্যাংগুয়েজ বা অপারেটিং সিস্টেম ইউনিক্স তারই উদ্ভাবন। প্রযুক্তি খাতে অবদানের জন্য অনেক পুরস্কার পেলেও তাকে নিয়ে তেমন মাতামাতি হতে দেখা যায়নি। প্রযুক্তি সচেতন অনেকে হয়তো তার নামটাই জানেন না। এতে অবশ্য দোষ দেয়ারও কিছু নেই। কারণ তাকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা না হওয়ার কারণে অনেকটা পর্দার পেছনেই থেকে গেছেন প্রযুক্তির এ কাণ্ডারি।

রিচি না থাকলে হয়তো কম্পিউটার প্রযুক্তি আজ ভিন্ন অবস্থানে থাকত। কারণ তিনি না থাকলে আজকের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম থাকত না। থাকত না ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম, সি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। এমনকি তিনি না থাকলে হয়তো আজ সবাইকে কম্পিউটারের ব্যবহার বায়োনারিতেই করতে হতো। অর্থাত্ কি-বোর্ড থাকত বায়োনারিতে, মনিটরে লেখাও উঠত বায়োনারিতে। কিন্তু এর কিছুই ঘটেনি রিচির কল্যাণে।

দীর্ঘদিনের সহকর্মী কেন থম্পসনের সঙ্গে মিলে তৈরি করেন ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম। রিচি ও থম্পসন অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটিং মেশিনারি (এসিএম) থেকে ১৯৮৩ সালে টিউরিং পদক পান। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (আইইই) থেকে ১৯৯০ সালে হ্যামিং মেডেল পান। ১৯৯৯ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কাছ থেকে গ্রহণ করেন ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি। ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণের আগে তিনি লুসেন্ট টেকনোলজিস সিস্টেম সফটওয়্যারের গবেষণা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রযুক্তি খাতে বেশ কার্যকর অবদানই রেখেছেন এ কম্পিউটার বিজ্ঞানী। কিন্তু আমরা কতজন তাকে চিনি? ক’জনই তার জন্মদিনে আনন্দ বা মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক পালন করি? রিচি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেছেন ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুবার্ষিকীতে তেমন কোনো আয়োজন হতে দেখা যায়নি। মজার বিষয় হচ্ছে, রিচির মৃত্যুবরণের মাত্র সপ্তাহখানেক আগে মারা যান প্রযুক্তি খাতের আরেক মহারথী স্টিভ জবস। তার মৃত্যুবার্ষিকী কিন্তু প্রযুক্তি খাত ও প্রযুক্তিপ্রেমীরা বেশ ভালোভাবেই পালন করেন। প্রতি বছর জবসের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার অবদান স্মরণ করা হয়। কিন্তু রিচি কি সেক্ষেত্রে কিছুটা হলেও মনোযোগ প্রাপ্য নন? কথায় রয়েছে, ইতিহাস সেনাপতিকে মনে রাখে, সেনাদের নয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ডিভাইস বা সেবা নিয়ে মানুষের সামনে এসেছেন জবস। পাশাপাশি নিত্যনতুন ধারণা থেকে প্রযুক্তি খাতকে করেছেন আরো আবেদনময়ী। এ কারণে তার মুখ মানুষের খুব পরিচিত। কিন্তু রিচি নীরবে নিভৃতে কাজ করে গেছেন কম্পিউটার প্রযুক্তির উন্নয়নে। তিনি না থাকলে আজ হয়তো কম্পিউটার প্রযুক্তির ইতিহাস ভিন্নভাবেই লেখা হতো।

৭০ বছর বয়সে নিউজার্সির নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন রিচি। কিন্তু তার মৃত্যুর বিষয়টি মিডিয়ায় তেমন প্রচার হয়নি। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ক্যান্সার ও হূদরোগে ভোগার পর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। সহকর্মী পল ই. সেজুরি রিচির বিষয়ে বলেন, ‘রিচি সবসময় রাডারের নিচে ছিলেন। তার নাম কখনই তেমনভাবে প্রচারিত হয়নি। আপনার কাছে যদি একটি মাইক্রোস্কোপ থাকে আর আপনি কম্পিউটারে নজর দেন, তবে সব জায়গায় তার কাজ দেখতে পাবেন।’

কিন্তু এ কাণ্ডারি চলে গেলেন অনেকটাই নীরবে। আবার আসছে অক্টোবর। ওই মাসের ৫ তারিখ স্টিভ জবসের মৃত্যুকে প্রযুক্তি খাত যে বিশেষভাবে মনে করবে, তা বলা বাহুল্য। কিন্তু কম্পিউটার প্রযুক্তির এক বিশাল অংশের উন্নয়নকারী রিচির মৃত্যুদিবস ১২ অক্টোবর কি স্মরণে রাখবে কেউ? মনে রাখা উচিত। কারণ আজ কম্পিউটার প্রযুক্তির এ জয়জয়কারের পেছনে তার অবদান কম নয়। তার মতো মানুষের জীবন থেকে শেখার অনেক বিষয় রয়েছে, যা নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। তাই তার জীবন নিয়ে আলোচনা ও নতুন প্রজন্মের স্বার্থে তার সফলতাগুলো সামনে আনা এখন সময়ের দাবি। তাকে ছাড়া কম্পিউটার প্রযুক্তির ইতিহাস একপেশেই থেকে যাবে।