বিস্তারিত

ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকির অবৈধ সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

ছবি : সংগ্রহকৃত

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রী চুমকি কারণের নামে থাকা ছয়তলা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও গাড়ি ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাজী সানোয়ার আহমেদ বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় প্রদীপ কুমার দাশের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ছাড়া দুদকের পক্ষে আমরা তাঁর স্ত্রী চুমকি কারণের অবৈধ সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেছিলাম। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।

ক্রোকের আদেশ দেওয়া সম্পত্তির মধ্যে প্রদীপের স্ত্রীর নামে নগরের পাথরঘাটা এলাকার দুই ইউনিটবিশিষ্ট একটি ছয়তলা বাড়ি, নগরের মুরাদপুর এলাকার সেমিপাকা বাড়ি, কক্সবাজারে ফ্ল্যাট, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার একটি করে এবং ১৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা থাকা বেসিক ব্যাংক নগরের আসাদগঞ্জ শাখার একটি হিসাব।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মহানগর সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত দুদকের মামলায় প্রদীপ কুমার দাশকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। গত ২৩ আগস্ট প্রদীপ কুমার দাশ ও তাঁর স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ বাদী হয়ে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দীন। এ মামলায় ২৭ আগস্ট আদালতে প্রদীপ কুমার দাশকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জমা দেওয়া হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রদীপের বাবা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) একজন নিরাপত্তাপ্রহরী ছিলেন। ১৯৯৫ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে যোগ দেন প্রদীপ। ২০০২ সাল থেকে তাঁর সম্পদগুলো দৃশ্যমান হতে থাকে। নানা কারণে প্রদীপ হতে থাকেন আলোচিত। ওসি প্রদীপের সব সম্পত্তিই তাঁর স্ত্রী চুমকির নামে। তাঁর কোনো বিশ্বাসযোগ্য জ্ঞাত আয়ের উৎসই নেই।

চুমকি পারিবারিক ব্যয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে খরচ করেছেন ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। চুমকির আগের সঞ্চয়, উপহার ও বাড়িভাড়া থেকে বৈধ আয় হিসেবে ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ২৩৪ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। বৈধ আয় বাদ দিলে চুমকির নামে মোট তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এটা তাঁর জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে সম্পদ কিনে স্ত্রীর নামে রেখেছেন বলে দুদক অনুসন্ধানে তথ্য পেয়েছে। ওসি প্রদীপ বর্তমানে কারাগারে আছেন। তাঁর স্ত্রী চুমকি পলাতক রয়েছেন।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : নিউজ ডেস্ক