বিস্তারিত

ঈদ উপলক্ষে খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দিন ‘কাদের সিদ্দিকী’

ছবি : সংগ্রহকৃত

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, বেশ কদিন কোনো শান্তি ও স্বস্তি পাচ্ছি না। মনটা খুবই খারাপ। দেশের ভালো হলে, নাম হলে অল্পবিস্তর যাই হোক তার ভাগিদার আমরাও কিছু মানুষ হই। আবার দেশটা রসাতলে গেলে, বদনাম হলে তাও আমাদের কিছু মানুষের ওপর বর্তায়। কাকের মতো চোখ-কান বন্ধ করে থাকতে পারি না, তাই যত যন্ত্রণা। বেশ কিছুদিন মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এমন আচরণ কোনো রাষ্ট্র করতে পারে, রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করতে পারে, ভাবা যায় না। একরামকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে এখন তা সবাই জানে। মন্ত্রীরা বলছেন তদন্ত হবে। কেউ বলছেন, বড় কাজ করতে গেলে দু-একটা ভুল হতেই পারে। ভুল তাও আবার মানুষের জীবন নিয়ে— এটা ভাবা যায়? আমরা একটা পিঁপড়ার জীবন দিতে পারি না অথচ আল্লাহর সব থেকে প্রিয় মানুষের জীবন নষ্ট করি। খুনিরা খুন করে, কিন্তু রাষ্ট্রই যদি খুনি হয় তাহলে তো পেশাদার খুনিরা বেকার হয়ে পড়বে। অবিরাম মানুষের জীবন নষ্ট হচ্ছে। মনে হয় বড় বেশি আদর্শ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়িনি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ আমাকে আলোড়িত করেছে, তা ছাড়া চোখের সামনে নিরীহ মানুষকে হত্যা ও মা-বোনের সম্মান-সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়ায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আজ তেমন কিছু করতে পারছি না। তাই কোথাও কোনো শান্তি পাচ্ছি না।

আজ সাড়ে তিন মাস বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায়। যারা রাজনীতি করেন তারা জেলখানায় যাবেন এটা কোনো বড় কথা নয়। বড় কথা হলো তাকে ন্যায়, না অন্যায়ভাবে জেলে রাখা হয়েছে। তাকে যে মামলায় জেল দেওয়া হয়েছে মামলাটি যদি মেনে নিতে পারতাম, ঘটনাটি সত্য বলে মনে হতো তাহলে কোনো জ্বলন থাকত না। আর একসময় যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছি। সেজন্য এখন কাউকে কোনো পরামর্শ দিলে কেউ যদি কিছুই না শোনে সামান্য হলেও খারাপ লাগে।

সেদিন জেল থেকে শ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী জোসেফকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখালচন্দ্র নাহার জেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন বছর পরও ছাড়া হচ্ছে না। এগুলো পীড়া দেয়। সারা জীবন আওয়ামী লীগ করেছি, এখন করি না। বিএনপি করি না। নিজের দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ করি। তার পরও খালেদা জিয়ার জন্য খারাপ লাগে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, সন্তানহারা বেগম খালেদা জিয়া আজ সাড়ে তিন মাস কারাগারে। পাঁচ বছর কেন, বেঁচে থাকলে ৫০ বছর কারাগারে থাকবেন যদি তিনি অপরাধী হন। কিন্তু তার জামিনের বিরুদ্ধে হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে আপিল এটা কেন যেন খুবই দৃষ্টিকটু ও হীনমন্যতার কাজ বলে মনে হচ্ছে।

পাকিস্তানের অত্যাচারী শাসকরা বঙ্গবন্ধুকে কম নির্যাতন-নিপীড়ন, নাজেহাল করেনি। কিন্তু তার জামিনের বিরুদ্ধে হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে যায়নি। আর বঙ্গবন্ধুকে হাই কোর্ট থেকে তেমন জামিন নিতে হয়নি। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট জামিন দেয়নি, জজ কোর্টে আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে জামিন পেয়েছেন। অথচ বর্তমান সরকার হাই কোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করছে। যে যাই বলুন ভাবীকাল এসব খুব সম্মানের চোখে দেখবে না। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সরকার ও সরকারের প্রধান বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ, আদালত জেল দিয়েছে, আদালত জামিন দিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে আপিল করায় জামিন স্থগিত রয়েছে। দেশবাসীর আন্দাজ, নির্বাচনের আগে বেগম জিয়াকে ছাড়া হচ্ছে না। প্রতিহিংসা ভালো কিছুর জন্ম দেয় না। তাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ ’৭০-এর ওপর বয়সী বেগম খালেদা জিয়াকে ঈদের এক সপ্তাহ আগে এবং ঈদের এক সপ্তাহ পর পর্যন্ত দুই সপ্তাহের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিন। এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। বরং দেশবাসীর কাছে বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখতে পারবেন এবং তা আগামী নির্বাচনে আপনার জন্য অনেক ভালো হবে। আমি আন্তরিকভাবেই আশা করব, বেগম খালেদা জিয়াকে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে প্যারোলে মুক্তি দেবেন।

 

সংবাদের ধরন : র্শীষ সংবাদ নিউজ : নিউজ ডেস্ক