বিস্তারিত

ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হত্যাচেষ্টায় নতুন মোড়

ছবি : সংগ্রহকৃত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। এ ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারেন একজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। নিজের আধিপত্য বিস্তারের কাঁটা সরাতেই তিনি এমন নিকৃষ্ট পথ বেছে নিয়েছিলেন কিনা তা তদন্ত হচ্ছে।

তদন্তের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আসাদুল, নবীরুল এবং সান্টু কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদে তার বিষয়ে তথ্য এসেছে বলে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে। দিনাজপুর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি ইমাম আবু জাফর এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই পুলিশ অফিসার রিমান্ডে আসামিদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এরমধ্যে ইউএনও’র গাড়িচালক হাফিজ ও ইয়াসিন নামের দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার পর তাদেরকে আটক করা হয়। বর্তমানে থানা হেফাজতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এর আগে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রোববার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসার দুই গৃহপরিচারিকাকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- জবেদা খাতুন (২৮) ও আরসোলা (৩২)। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ইমাম আবু জাফরের নেতৃত্বে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া প্রধান আসামি আসাদুল হক, পরিকল্পনাকারী নরীরুল এবং সেন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনজনের কাছে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে ঘটনার নেপথ্যের সব বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বের করার চেষ্টা করছেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ইমাম আবু জাফর।

ঘটনাটি চুরির বলে দাবি করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ইমাম জাফর বলেছেন, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি দেখছেন।

গাড়িচালক এবং গৃহপরিচারিকা ছাড়াও প্রধান আসামি আসাদুলের ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম শাওন, বাগানের মালি সুলতান কবির এবং (গ্রেপ্তারকৃত সেন্টুর নিকটাত্মীয়) শ্যামল কুমারকে শনিবার থেকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ। তবে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার অথবা আটক দেখাননি তারা। তথ্য জানতে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাচেষ্টা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো যাদের আটক করা হয়েছে তারা হলেন, উপজেলার বানিয়াল পালশা গ্রামের খোকা শেখের ছেলে মো. শাহজাহান শেখ (৩৫) চক বাসুনিয়া বিশ্বনাথপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সোহেল রানা (২৯) মামলার প্রধান আসামি আসাদুলের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম (৪০), একই গ্রামের সইমুদ্দিনের ছেলে সুলতান (৩২) ও ধীরেন্দ্র নাথের ছেলে শ্যামল চন্দ্র (৩০)। এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি ইমাম আবু জাফর। আর মামলার বাদী ইউএনও’র বড় ভাই শেখ আরিফ হোসেন।

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন- যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আসাদুল হক (৩৮) রংমিস্ত্রী নবীরুল ইসলাম (৩৩) ও সান্টু কুমার বিশ্বাস (২৯)। এই তিন আসামিকে ৭ দিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এদিকে ছেড়ে দেয়া বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে আবারো খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন তথ্য দিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : নিউজ ডেস্ক