বিস্তারিত

আত্মসাতের অর্থ বাইরে পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন ইউজার আইডি শনাক্ত

bdnews,bd news,bangla news,bangla newspaper ,bangla news paper,bangla news 24,banglanews,bd news 24,bd news paper,all bangla news paper,all bangla newspaper, prothom-alo, bdnews24.com. ছবি : সংগ্রহকৃত

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট থেকে চুরি যাওয়া যে টাকা ফিলিপিন্স ব্যাংকে গেছে, তার বড় একটি অংশ দেশটির ক্যাসিনো শিল্পে ঢুকেছে। এর পরিমাণ ৪৬ মিলিয়ন ডলার বলে জানা গেছে। ক্যাসিনোতে খরচ হওয়া টাকা ফিলিপিন্সে পাঠানো অর্থের ৫৬ শতাংশ বলে জানিয়েছে তদারকিতে নিয়োজিত সংস্থা ফিলিপিন্স এ্যামিউজমেন্ট গেমলিং কর্পোরেশন (পেগকর)। বাকি ৪৪ শতাংশ অর্থের গতিপথ সম্পর্কে কোন তথ্য তাদের জানা নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির ইংরেজী দৈনিক ইনকোয়ারার। এই প্রেক্ষাপটে ফিলিপিন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাকড হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কম বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তবে বিপুল পরিমাণ অর্থের মধ্যে মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত পাওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এক ফিলিপিন্স ব্যবসায়ী। এদিকে আত্মসাতের অর্থ বাইরে পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন ইউজার আইডি শনাক্ত।

জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ থেকে ৯ তারিখের মধ্যে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে অবস্থিত তাদের এ্যাকাউন্ট থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা চুরি হয়। পরে জানা যায়, এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপিন্সের আরবিসি ব্যাংকের একটি শাখার পাঁচটি এ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। এ অর্থ পরে ফিলিপিন্সের তিনটি ক্যাসিনো হয়ে হংকংয়ে চলে গেছে। দুনিয়ার ইতিহাসে অন্যতম বড় এ ব্যাংক চুরির ঘটনা পৃথকভাবে তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তদন্তে সহায়তা করছে সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইনফরম্যাটিক্স ও ফায়ারআই।

সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে এফবিআই ও মার্কিন বিচার বিভাগ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট থেকে চুরি যাওয়া যে টাকা ফিলিপিন্স ব্যাংকে গেছে, তার বড় একটি অংশ দেশটির ক্যাসিনো শিল্পে ঢুকেছে। ব্যাংক এ্যাকাউন্টে টাকা আসার পর পরই দু’জায়গায় তা দ্রুত স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গেছে সোলারি রিসোর্ট এ্যান্ড ক্যাসিনোতে এবং বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার গেছে ইস্টার হাওয়াই ক্যাসিনো এ্যান্ড রিসোর্টে। ক্যাসিনোতে খরচ হওয়া টাকা ফিলিপিন্সে পাঠানো অর্থের ৫৬ শতাংশ বলে জানিয়েছে তদারকিতে নিয়োজিত সংস্থা ফিলিপিন্স এ্যামিউজমেন্ট গেমলিং করপোরেশন (পেগকর)। বাকি ৪৪ শতাংশ অর্থের গতিপথ সম্পর্কে কোন তথ্য তাদের জানা নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা। সংস্থাটির ওই কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে দেশটির ইংরেজী দৈনিক ইনকোয়ারার জানিয়েছে, ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংকের পাঁচটি এ্যাকাউন্টে ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার স্থানান্তর করে হ্যাকাররা। ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া টাকার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। পেগকোর কর্মকর্তা আরও জানান, এ্যান্টি মানি-লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি) আবেদন জানালে আদালত ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ১ মার্চ এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এর আগ পর্যন্ত বিদেশ থেকে আসা এ টাকা লেনদেন হচ্ছিল ক্যাসিনো টেবিলে। সবই চলছিল স্বাভাবিক নিয়মে। ঝামেলা বাধে দ্য ইনকোয়ারারের প্রতিবেদন প্রকাশের পর। এ পর্যন্ত ফিলিপিন্সে আসা চুরি যাওয়া কত টাকা এএমএলসি উদ্ধার করতে পেরেছে কিংবা উদ্ধার করতে পারলে সে টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে হন্তান্তর করা হবে কি-না সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যমের অনুরোধ সত্ত্বেও এ বিষয়ে কিছু বলতে অপারগতা জানিয়েছে এএমএলসি কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন ছয়জনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ফিলিপিন্সের মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের ডাইরেক্টর (অপারেশন) তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহা জনকণ্ঠকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী ব্যবস্থা-সুইফটের সঙ্কেতলিপি ব্যবহার করেই যে যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছিল এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমেই হ্যাকার ঢুকেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে নয়। তবে যেখান থেকেই হ্যাকড হোক না কেন- প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানা গেছে, ভাইরাস ইনফেকশন অথবা অভ্যন্তরীণভাবে পিন কোড না দিলে এ অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশের কেউ না কেউ জড়িত থাকতে পারে উল্লেখ করে সরকারের তদন্ত কমিটির এ সদস্য বলেন, যদিও বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে, তদন্তের আগে কারা জড়িত থাকতে পারে এ বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। সুইফটের সঙ্কেতলিপি জালিয়াতরা কিভাবে পেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, এখন পর্যন্ত তদন্তের যে অগ্রগতি তাতে খুব শীঘ্রই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে যে টাকা খোয়া গেছে তার একটি বড় অংশ ফিলিপিন্সের ক্যাসিনো শিল্পে ঢুকেছে। এই অবস্থায় টাকা উদ্ধার অনেকটাই ক্ষীণ বলে এই প্রযুক্তিবিদ মনে করেন।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, শালিকা ফাউন্ডেশন নামে শ্রীলঙ্কার একটি এনজিওর ডয়চে ব্যাংকের এ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল দুই কোটি ডলার। সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এ্যাকাউন্টের অর্থ সরানো হয় শ্রীলঙ্কার ব্যাংকেও। কিন্তু পেমেন্ট অর্ডারে ‘ভড়ঁহফধঃরড়হ’-এর জায়গায় লেখা হয়েছিল ‘ভধহফধঃরড়হ’, তাতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। তখন টাকা এ্যাকাউন্টে স্থানান্তর আটকে দেয়া হয়। পরে ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এক ফিলিপিন্স ব্যবসায়ী। ফিলিপিন্সের অর্থপাচারবিরোধী সংস্থা এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মোট ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। এ ছয়জনের একজন উইলিয়াম এস. গো। তার দাবি, এ চুরির ঘটনায় তিনি জড়িত নন। তাই তার ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলে দিতেও তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার দেশটির ইংরেজী দৈনিক ইনকোয়ারার অপর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উইলিয়াম এস. গোর আইনজীবী র‌্যামন এসগুয়েরা বলেন, ফিলিপিন্সের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) একটি শাখায় এস. গো এবং তার কোম্পানি সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিংয়ের নামে যেসব এ্যাকাউন্ট নিবন্ধিত রয়েছে, সেগুলো ভুয়া! এমনকি এসব এ্যাকাউন্টে উইলিয়াম গোর স্বাক্ষরও জালিয়াতি করা হয়েছে! উইলিয়াম গোর পক্ষে তার আইনজীবী র‌্যামন অন্য ব্যাংকে তার এ্যাকাউন্টসমূহ খুলে দিতে ফিলিপিন্সের আপীল আদালতে আবেদন করেছেন।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : স্টাফ রিপোর্টার