বিস্তারিত

আজ শহীদ আলতাফ উদ্দিন মোহাম্মাদ এর শাহাদাত বার্ষিকী

ছবি : সংগ্রহকৃত

বাবুগঞ্জ বরিশাল জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। বাবুগঞ্জ থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯০৬ সালে। বাবুগঞ্জ নামকরণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ইতিহাস পাওয়া না গেলেও ইতিহাস বর্ণনায় জানা যায়, আজ থেকে ৪০০ বছর আগে এই অঞ্চলে বসবাসরত বেশ ক’জন হিন্দু জমিদার তাদের প্রয়োজনে বাবুগঞ্জ উপজেলা সদরের বর্তমান বাজারটি মেলায়। ঐ সময়ে অত্র অঞ্চলের লোকজন জমিদারদের বাবু বলে সম্বোধন করত। আর বাজারটিকে তারা অভিহিত করত গঞ্জ বলে। ফলে জমিদার বাবুদের মেলানো গঞ্জ থেকে এই এলাকার নাম হয় বাবুগঞ্জ। অন্য এক তথ্যানুসারে বলা হয় যে, যশোর পরগনার জমিদার ‘বাবু বিরাজ রায় চৌধুরী’ এই অঞ্চল প্রাপ্ত হয়ে এখানে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র (গঞ্জ) প্রতিষ্ঠা করেন। বাবু বিরাজ রায় চৌধুরীর নামানুসারে এলাকার নাম হয় বাবুগঞ্জ।

সেই বাবুগঞ্জ থানার অন্তর্গত আগরপুর গ্রামে ১৯০৭ সালে আলতাফ উদ্দিন মোহাম্মাদ এর জন্ম। আলতাফ উদ্দিন মোহাম্মাদ জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেনও সাধারণ মেহেনতি মানুষের পাশে ছিলেন, অধিকার আদায়ে তিনি নির্যাতিদের পাশে ছিলেন সব সময়। আলতাফ উদ্দিন মোহাম্মাদ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিত্ব। আলতাফ উদ্দিন মোহাম্মাদ ১৯৪৯-৫০ সালে বৃহত্তর বরিশাল মুস্লিমলীগের সিনিঃ সহঃ সভাপতি ও বরিশাল মহাকুমার সভাপতি ছিলেন।

১৯৫০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ববঙ্গ বর্তমানে বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের চালিত একটি বিরামহীন ধারাবাহিক গণহত্যা। এই গনহত্যায় হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং পাকিস্তানি পুলিশ,প্যারা মিলেটারি বাহিনী হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন চালায়।

১৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে বরিশালে শুরু হওয়া গনহত্যায় হিন্দুদেরকে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন করা হয়। ফলে বরিশালের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়। আরও একটি গুজব ছড়ানো হয় যে, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে কোলকাতায় খুন করা হয়েছে। বরিশালের আকাশে সন্ধ্যা নেমে আসতেই কমপক্ষে আট জায়গাতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। ত্রিশটি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়া হয় এবং কমপক্ষে দশ জন আগুনে দগ্ধ হয়। বাবুগঞ্জ অন্তর্গত আগরপুর গ্রামে প্রায় তিনশ হিন্দুকে আটক করে উগ্রপন্থীরা। তখন মুস্লিমলীগের সিনিঃ সহঃ সভাপতি আলতাফ উদ্দিন মোহাম্মাদ তার জীবন বাজি রেখে তাদের উদ্ধার করেন এবং তার জমিদার বাড়িতে অনেক হিন্দু পরিবারকে আশ্রয় দেন। তিনি হিন্দু পরিবারগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আমার দেহে জীবন থাকা পর্যন্ত আপনাদের গায়ে কেহ অাঘাত করতে পারবেনা”। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ১৯৫০ সনের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে সেই সমাজসেবক বীর কে উগ্রপন্থীদের হাতে জীবন দিতে হল। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে তার অনুরাগী সকল মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা প্রতিবাদ করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। শহীদ আলতাফ উদ্দিন মোহাম্মাদ এর রক্তের বিনিময়ে অত্র অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তথা সারাদেশের দাঙ্গার অবসান ঘটল।

তিনিই আবারও প্র্রমান করলেন মানুষই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আমাদের মহানবীর (সা.) তিনি সকল গোত্রের মানুষের প্রিয় পাত্র ছিলেন। শহীদ আলতাফ উদ্দিন মোহাম্মাদ নবীজিকে অনুসরণ করেছেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন।

রায় বাহাদুর আর পি সাহা (রণদাপ্রসাদ সাহা) শহীদ আলতাফ উদ্দিন এর গ্রাম আগরপুর যান এবং তার নামে শহীদ আলতাফ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এছাড়া দক্ষিণ আলেকান্দা, বরিশালেও আরও একটি শহীদ আলতাফ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এই পরোপকারী বীর আমার দাদা। আজ ১৮ই ফেব্রুয়ারি আমার দাদার শাহাদাত বার্ষিকী। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

সংবাদের ধরন : বাংলাদেশ নিউজ : নিউজ ডেস্ক