বিস্তারিত

অক্ষয়ের কারনে বলিউড ছেড়েছেন এই নায়িকা

ছবি : সংগ্রহকৃত

ভারতের ইউনিলিভার কোম্পানির ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’ ক্রিম থেকে চিরতরে বাদ যেতে চলেছে ‘ফেয়ার’ কথাটি। সেই পথ অনুসরণ করেছে বিখ্যাত ফরাসি কসমেটিক কোম্পানি লোরিয়্যালও। অর্থাৎ ফর্সা হলেই তিনি সুন্দরী, আর গায়ের রং কালো হলে নয় এই ধারণা থেকে মুক্তি পেতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা নিয়েও সারা বিশ্বে যে নিন্দার ঝড় উঠেছে সেটিও এই ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।

এ দেশে চিরকালই ফর্সা গায়ের রঙের মেয়েদের কদর বেশি। আজও খবরের কাগজে বিয়ের পাত্রী খোঁজা হয় সুন্দরী ও গায়ের ফর্সা এই শর্ত দিয়ে। কালো মেয়ের নাকি এ দেশে বিয়ে হয় না, এমনকি সে নাকি ভাল জায়গায় চাকরিও পায়না, তা সে যতই শিক্ষিত হোক না কেন। এবার গায়ের রং নিয়ে কী ভাবে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন অভিনেত্রী শান্তিপ্রিয়া সেকথাই শেয়ার করেছেন তিনি।

১৯৯১ সালে সৌগন্ধ নামের একটি ছবিতে বলিউড অভিষেক করেছিলেন শান্তিপ্রিয়া। বিপরীতে ছিলেন অক্ষয় কুমার। সম্প্রতি নবভারত টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শান্তিপ্রিয়া জানিয়েছেন, অক্ষয় তাঁর গায়ের রং নিয়ে সবার সামনে মস্করা করেছিলেন এবং সেটি তাঁকে ভয়ংকর কষ্ট দিয়েছিল। এর পরই মানসিক অবসাদের শিকার হয়েছিলেন অভিনেত্রী এবং বলিউড ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।

গায়ের রং ফর্সা হওয়াটা বরাবরই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বেঞ্চমার্ক। কিছুদিন আগে এ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন বাঙালি অভিনেত্রী বিপাশা বসুও। তাঁর অভিনয় দক্ষতা, সেক্স অ্যাপিল সবেরই নাকি কারণ বলিউড মনে করত তাঁর কালো গায়ের রং। শান্তিপ্রিয়াও একই কথা মনে করেন। শুধু অক্ষয় কুমার নন, বেশিরভাগ পুরুষের কাছেই এটা একটা সৌন্দর্যের মাপকাঠি বলেই মনে করেন তিনি। শান্তিপ্রিয়া জানিয়েছেন, অক্ষয়ের মস্করার পর নিজের গায়ের রং এমনকী নিজেকেই অপছন্দ করতে শুরু করেছিলেন তিনি। মাকেও প্রশ্ন করেছিলেন কেন তাঁর গায়ের রং কালো। দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তার পর কাজই ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।

শান্তিপ্রিয়া বলেছেন, ‘সৌগন্ধে কাজ করার পর আমি ও অক্ষয় ইক্কে পে ইক্কার শ্যুটিং শুরু করি। এক আধুনিক চরিত্র, আমাকে ছোট ড্রেস পরতে হত। আমি ড্রেসের সঙ্গে স্টকিংস পরতাম। আমার মনে আছে অক্ষয় কী ভাবে আমাকে নিয়ে মজা করতেন। ক্লাইম্যাক্সের শ্যুটিংয়ের সময় আমি স্টকিংস পরেই ছিলাম। আমার হাঁটুগুলো আরও কালোও দেখাচ্ছিল। অক্ষয় বাদেও সেখানে পঙ্কজ ধীর, চাঁদনি, পৃথ্বী, রাজ সিপ্পি, স্পটবয়, মেকআপ ম্যান থেকে প্রায় ১০০ জন ছিলেন সেখানে। সবার সামনে অক্ষয় আমাকে বলেছিলেন শান্তিপ্রিয়ার পায়ে দুটো জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধেছে। অনেকবার ওই কথাটা বলেছিলেন তিনি। আমি বুঝতে না পেরে জিগ্গেস করেছিলাম। তখন বলেছিলেন নিজের হাঁটুগুলো দেখো। আমি খুবই আঘাত পেয়েছিলাম এবং লজ্জা লেগেছিল। আমি খালি ভাবছিলাম কী ভাবে এ লোকের সামনে এই কথাটা বললেন অক্ষয়।’

যদিও এ নিয়ে অক্ষয় কুমারের উপর কোনও রাগ নেই শান্তিপ্রিয়ার। তাঁর মতে, আমরা এখন সবাই পালটে গিয়েছি। অক্ষয় এখন খুবই ভালো বন্ধু। আমি ওকে এসব বলে আঘাত দিতে চাই না। আমি যখন কয়েক বছর পরে ফিরতে চেয়েছিলাম ইন্ডাস্ট্রিতে আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন অক্ষয়। তখন আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন তিনি। তবে এ ধরনের মজা-মস্করা অনেক মানুষের জীবন নষ্ট করে দিতে পারে বলেই আশঙ্কা আমার।

সংবাদের ধরন : বিনোদন নিউজ : নিউজ ডেস্ক